ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত ভারতীয় সাংবাদিক তরুণ তেজপাল
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- ভারতের আলোচিত অনুসন্ধানী সাময়িকী তেহেলকা-র সাবেক সম্পাদক ও বিশিষ্ট সাংবাদিক তরুণ তেজপালকে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করেছেন বোম্বে হাইকোর্টের…
মেলবোর্ন, ৬ আগষ্ট- ভারতের পার্লামেন্টে চলমান অচলাবস্থা নিরসনের উদ্যোগ হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন দেশটির সংসদবিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। বুধবার (৫ আগস্ট) প্রায় ৫০ মিনিটের ওই বৈঠকে সীমা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) বিল এবং ২০২৬ সালের ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) সংশোধনী (এফসিআরএ) বিলসহ সরকারের আইন প্রণয়নের এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয়।
তবে বৈঠকে বিরোধী দল সরকারের কোনো প্রস্তাবে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দেয়নি। কংগ্রেস তাদের আগের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানায়, এই মুহূর্তে ডিলিমিটেশন বিলের বিরোধিতা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তারা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ২০ জুলাই দিল্লিতে আন্দোলনরত ছাত্র-যুবকদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানের বিষয়ে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার দাবি পুনরায় তোলে। এছাড়া অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুদান তছরুপের অভিযোগ নিয়েও সংসদে আলোচনা দাবি করে বিরোধী দল।
২০ জুলাই শুরু হওয়া বর্ষাকালীন অধিবেশনের শুরু থেকেই সরকার ও বিরোধী দলের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রম বারবার ব্যাহত হচ্ছে। ১৩ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারিত এই অধিবেশনের বাকি সময় স্বাভাবিকভাবে পরিচালনার জন্য বিরোধী দলের সহযোগিতা চাইতেই রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রিজিজু।
সরকারি সূত্রগুলোর দাবি, বৈঠকে রিজিজু সরকারের ঝুলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের বিষয়গুলো তুলে ধরেন। এর মধ্যে এফসিআরএ সংশোধনী বিল এবং ডিলিমিটেশন বিলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সাংবিধানিক সংশোধনী বিল পুনরায় উত্থাপনের বিষয়ও ছিল। এসব বিল পাসের সম্ভাব্য উপায় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তবে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ডিলিমিটেশন বিল নিয়ে দলের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। যদিও রিজিজু কংগ্রেসকে তাদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
বিশেষ অধিবেশন নিয়ে জল্পনা, সরকারের অস্বীকৃতি
ভারতের স্বাধীনতা দিবসের পর তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন ডেকে নারী সংরক্ষণ বিল ও ডিলিমিটেশন বিল পাস করানোর সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রিজিজু বলেন, বর্তমানে এমন কোনো প্রস্তাব সরকারের বিবেচনায় নেই।
তিনি বলেন, “সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও আলোচনার পথ খোলা রাখা উচিত। আমি বিরোধীদলীয় নেতার কাছে সেই আহ্বান জানিয়েছি। তবে চলমান অধিবেশন বাড়ানোর কোনো প্রস্তাব এই মুহূর্তে নেই।”
অন্যদিকে সরকারি সূত্র জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে। কংগ্রেসও জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সংসদ পুনরায় বসার আগে বিরোধী দলগুলো রিজিজুর উত্থাপিত বিষয়গুলো নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে।
ডিএমকেসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনা করবে কংগ্রেস
কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা শুধু ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকদের নয়, জোটের বাইরে থাকা বিরোধী দলগুলোর সঙ্গেও যৌথ অবস্থান নির্ধারণে আলোচনা করবে। এর মধ্যে তামিলনাড়ুর ডিএমকের সঙ্গেও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে।
যদিও সম্প্রতি তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে কংগ্রেস ও ডিএমকের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে, তবুও কংগ্রেসের ধারণা, ডিলিমিটেশন বিলের বিরোধিতার অবস্থান থেকে ডিএমকে সরে আসবে না। দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “এপ্রিল মাসে এম কে স্টালিন নিজেই ডিলিমিটেশন বিলের কপি পুড়িয়ে এটিকে ‘কালো আইন’ বলেছিলেন। এখন তারা কীভাবে এই বিলকে সমর্থন করবেন?”
আরও বৈঠকের সম্ভাবনা
সূত্রগুলো বলছে, রিজিজু ও রাহুল গান্ধীর মধ্যে আরও একটি বৈঠক হতে পারে। এরপর সরকার ও বিরোধী দল নিজ নিজ কৌশল চূড়ান্ত করবে।
এদিকে সরকারের এই উদ্যোগের পর নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে যে, বর্ষাকালীন অধিবেশন শেষে বিশেষ অধিবেশন ডেকে বিতর্কিত বিলগুলো পাসের চেষ্টা করা হতে পারে। এমনকি বর্তমান অধিবেশন সাময়িকভাবে মুলতবি রেখে স্বাধীনতা দিবসের পর একই অধিবেশনের ধারাবাহিকতা হিসেবে আবার বসার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে কংগ্রেস জানিয়েছে, রিজিজুর সঙ্গে বৈঠকে এ ধরনের কোনো প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়নি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রিয়াঙ্কা ও ভেনুগোপাল
সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র এবং কে সি ভেনুগোপালও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে ভেনুগোপাল বলেন, “রিজিজু সরকারের এজেন্ডা নিয়েই এসেছিলেন। কিন্তু আমাদের দাবিও স্পষ্ট। আমরা রামমন্দিরের অনুদান কেলেঙ্কারি নিয়ে সংসদে আলোচনা চাই। পাশাপাশি ছাত্রদের বিরুদ্ধে পুলিশের গুলি ও নির্যাতনের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যও চাই।”
অন্যদিকে রিজিজু বৈঠকটিকে “সৌজন্য সাক্ষাৎ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “কোনো নির্দিষ্ট ইস্যু নয়, বিভিন্ন বিষয়ে ভালো আলোচনা হয়েছে। আমি আশাবাদী।”
১২ কার্যদিবস কার্যত অচল সংসদ
বর্ষাকালীন অধিবেশনের ১২টি কার্যদিবস প্রায় সম্পূর্ণই বিক্ষোভ ও হট্টগোলে নষ্ট হয়েছে। বিতর্ক ছাড়াই কয়েকটি বিল পাস হয়েছে। এর মধ্যেই বিহারের বাঁকিপুর ও মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া উপনির্বাচনে বিজেপির পরাজয়ের পর সরকার সংসদের অচলাবস্থা নিরসরে আরও সক্রিয় হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ পর্যন্ত এই অধিবেশনে তিনটি বিল পাস হয়েছে। এগুলো হলো, পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার সংশোধনী বিল এবং রেজিস্ট্রেশন অব বার্থস অ্যান্ড ডেথস সংশোধনী বিল।
সরকার-বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
কংগ্রেস রিজিজুর এই উদ্যোগকে সরকারের “পিছু হটা” হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে বিজেপি অভিযোগ করেছে, বিরোধী দল ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করছে।
লোকসভায় বক্তব্যে রিজিজু বলেন, “বিরোধী দল সংসদ চলতে দিতে চায় না। তাদের কারণেই গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলো আলোচনা ছাড়াই পাস করতে হচ্ছে।”
রামমন্দিরের অনুদান ইস্যুতে বিরোধী দলের দাবির প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, “কংগ্রেস, বাম দল ও সমাজবাদী পার্টি সবসময়ই ভগবান রামের বিরোধিতা করেছে। তারা অযোধ্যার রামমন্দিরেরও বিরোধিতা করেছিল। এখন আবার সংসদ অচল করছে। তাদের জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।”
সরকারের অগ্রাধিকার গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস
বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতারা জানিয়েছেন, সরকার দ্রুত এফসিআরএ সংশোধনী বিল, নারী সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নের জন্য সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল এবং ডিলিমিটেশন বিল পাস করতে আগ্রহী। তবে এসব বিল পাসে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন নিশ্চিত করাই এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।
এফসিআরএ সংশোধনী বিল ইতোমধ্যে বিরোধী দল ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের সমালোচনার মুখে পড়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো বেসরকারি সংস্থা, সংখ্যালঘু পরিচালিত প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান রাইলি মুরও দাবি করেছেন, এই সংশোধনীগুলো ভারতে গির্জা ও ধর্মীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে, যা ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সূত্রঃ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au