রেসিং ট্র্যাকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, অক্ষত অজিত কুমার
মেলবোর্ন, ২৪ আগষ্ট- ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা অজিত কুমার ইউরোপের একটি রেসিং ট্র্যাকে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। হাই-স্পিড এন্ডুরেন্স রেস চলাকালে তার রেসিং কারে যান্ত্রিক…
মেলবোর্ন, ২৩ আগষ্ট- রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় রংপুর জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটক দুজনের নাম সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ। তারা দুজনই মাছুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, শনিবার রাতে চারজনের মরদেহ উদ্ধারের পরপরই ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযানের একপর্যায়ে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সূত্রের দাবি, আটকদের মধ্যে একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান টের পেয়ে পাশের রেশম উন্নয়ন বোর্ডের তুতবাগান এলাকায় পালিয়ে লুকিয়ে ছিলেন। পরে তুতবাগানের পাশের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পর ওই ভবনে ইয়াবা সেবনেরও কিছু আলামত পাওয়া গেছে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আটক দুজনের সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
নিহতরা হলেন, সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী পার্থী (২৪) এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম (১২)।
শনিবার রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দোতলা বাড়িটির ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, বাড়ির ছাদে গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায়। সিঁড়িতে পড়ে ছিল তার স্ত্রী প্রীতিলতা ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর মরদেহ। আর শোবার ঘরের খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় ১২ বছর বয়সী ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়মের মরদেহ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, হত্যাকাণ্ডটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটতে পারে। বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ঘরের আসবাবপত্র তছনছ এবং টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার রাখার স্থানগুলো ভাঙা পাওয়া গেছে। এসব আলামতের ভিত্তিতে প্রাথমিকভাবে ডাকাতির উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় যুবকদের একটি দল এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে বলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য দেয়নি পুলিশ।
ঘটনাস্থলে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি রংপুর মহানগর পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ ও র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাটির তদন্ত করছে।
রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও উপকমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একাধিক সংস্থা কাজ করছে। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চারজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি।
তিনি আরও জানান, বাড়িঘর তছনছ করার বিষয়টি দেখে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান সামগ্রী লুটের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বরে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর নিজ বাড়িতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার চেম্বার পরিচালনা করতেন। তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী কারমাইকেল কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে মাস্টার্স পরীক্ষা দিয়েছিলেন। ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আটক দুই যুবকের জিজ্ঞাসাবাদ ও অন্যান্য আলামত বিশ্লেষণের পর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au