রেসিং ট্র্যাকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, অক্ষত অজিত কুমার
মেলবোর্ন, ২৪ আগষ্ট- ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা অজিত কুমার ইউরোপের একটি রেসিং ট্র্যাকে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। হাই-স্পিড এন্ডুরেন্স রেস চলাকালে তার রেসিং কারে যান্ত্রিক…
মেলবোর্ন, ২৩ আগষ্ট- ইসরায়েলের সঙ্গে নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা শিগগিরই আবার শুরু হতে পারে বলে আশা করছে সিরিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি বলেছেন, ইসরায়েলের সঙ্গে বর্তমানে কোনো বিশ্বাসের সম্পর্ক না থাকলেও কূটনীতির দরজা এখনো খোলা রয়েছে। তিনি ইসরায়েলকে এই ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার দামেস্কে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শাইবানি এসব কথা বলেন। এর কয়েক দিন আগে ইসরায়েল সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল।
শাইবানি বলেন, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে নিরাপত্তা চুক্তি নিয়ে আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। তবে তিনি আশা করছেন, শিগগিরই আলোচনা আবার শুরু হবে। যদিও এখনো আলোচনার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঠিক হয়নি।
তিনি বলেন, সিরিয়ার প্রধান অগ্রাধিকার হলো ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা। এ জন্য দুই দেশের মধ্যে আস্থা তৈরির পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
শাইবানি বলেন, “আমরা মনে করি, বিশেষ করে যে পক্ষটি নিয়মিত সিরিয়ার নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে, তার সঙ্গে যোগাযোগ থাকা দরকার। কিন্তু সেই যোগাযোগ যদি কোনো ফল না আনে, তাহলে এর প্রয়োজন নেই। বর্তমানে আমরা ইসরায়েলকে বিশ্বাস করি না।”
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সরকারের সঙ্গে ইসরায়েলের একটি নিরাপত্তা চুক্তি করাতে এক বছরের বেশি সময় ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইসরায়েল সিরিয়ার ভূখণ্ডে সেনা মোতায়েন এবং দেশটির সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে আসায় সেই উদ্যোগ বারবার বাধার মুখে পড়েছে। ইসরায়েল এসব পদক্ষেপকে নিজেদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে দাবি করে।
শাইবানি বলেন, ইসরায়েল শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে, কিন্তু কোথাও তা সফল হয়নি। তাঁর বিশ্বাস, আলোচনা আবার শুরু হবে।
তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনায় বসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত চাপ দিচ্ছে। তবে কবে আলোচনা শুরু হবে, সে বিষয়ে কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
ইসরায়েলকে নিয়ে আশাবাদী কি না জানতে চাইলে শাইবানি বলেন, “ইসরায়েলের ওপর বাজি ধরা খুব কঠিন।” তবে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে সিরিয়ার “খুব বড় আশা” রয়েছে।
তিনি বলেন, সিরিয়া সমঝোতা, শান্তি, কূটনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার ইসরায়েল সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর দুই দেশের উত্তেজনা আবারও সামনে আসে। ইসরায়েলের দাবি ছিল, দামেস্ক ওই ঘাঁটিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের অনুমতি দিতে যাচ্ছে। তবে সিরিয়া ও তুরস্ক এ দাবি অস্বীকার করেছে।
শাইবানি বলেন, সিরিয়া ইসরায়েলের নিরাপত্তা উদ্বেগকে সম্মান করে। একইভাবে ইসরায়েলকেও সিরিয়ার নিরাপত্তা উদ্বেগকে সম্মান করতে হবে। এর মধ্যে সিরিয়ার আকাশসীমায় ইসরায়েলের ব্যবহার, ইসরায়েলি অভিযান এবং দক্ষিণ সিরিয়ায় গ্রেপ্তারের ঘটনাও রয়েছে।
সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, চলতি বছরের শুরুতে নিরাপত্তা চুক্তির বিষয়ে দুই পক্ষ কাগজে-কলমে প্রায় সব বিষয়ে একমত হয়েছিল। ওই চুক্তির আওতায় সিরিয়ায় ইসরায়েলের হামলা বন্ধ এবং বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর দখল করা ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
খসড়া চুক্তিতে ইসরায়েল-সিরিয়া সীমান্তের কাছে সিরিয়ার ভূখণ্ডে কয়েকটি নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরির প্রস্তাব ছিল। এর মধ্যে একটি বাফার জোনে শুধু জাতিসংঘের উপস্থিতি থাকবে। অন্য অঞ্চলগুলোতে নির্দিষ্ট মাত্রায় সিরীয় সেনা মোতায়েনের ব্যবস্থা থাকার কথা ছিল।
তবে শাইবানি অভিযোগ করেন, চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইসরায়েল নানা অজুহাত দেখিয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমরা দেখিনি যে তারা সত্যিকার অর্থে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে চায়।”
১৯৪৮ সাল থেকে সিরিয়া ও ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধে ইসরায়েল সিরিয়ার গোলান মালভূমি দখল করে নেয়।
শাইবানি বলেন, এখন সিরিয়ার প্রধান লক্ষ্য হলো নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছানোর আগেই ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা। এরপর শান্তি এবং গোলান মালভূমি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
সিরিয়া, তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত ঠেকাতে একটি সমন্বয় ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সিরিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক।
তবে শাইবানি বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চুক্তি হয়নি। তাঁর মতে, ওই ব্যবস্থা ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করার পাশাপাশি নিরাপত্তা চুক্তির পথ তৈরি করবে। এটি যেন “ইসরায়েলি দখলদারত্বকে আরও স্থায়ী” না করে, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সিরিয়া তুরস্কের সঙ্গে সামরিক প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। জর্ডান, সৌদি আরবসহ অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও সিরিয়ার সামরিক সহযোগিতা রয়েছে।
শাইবানি বলেন, সামরিক বাহিনী পুনর্গঠনে তুরস্কের সহযোগিতার জন্য দামেস্ক কৃতজ্ঞ এবং এই সমর্থন তারা ত্যাগ করবে না।
সূত্র-রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au