দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী, বললেন, ‘কার এত জ্বালা?’
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানতে…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের দ্বিতীয় বার্ষিকীকে সামনে রেখে ‘মক্কা সামরিক জোটে’ বাংলাদেশের যোগদানের উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক কৌশলগত ভারসাম্যকে নতুন পরীক্ষার মুখে ফেলেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি পক্ষ ২০২৬ সালের ৫ আগস্টকে ‘মক্কা জোটের’ প্রকাশ্য আত্মপ্রকাশের দিন হিসেবে নির্ধারণ করতে চেয়েছিল। পাকিস্তানের অনুরোধেই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ভারতের কাছ থেকে কথিত ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ উদ্যাপনের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সৌদি আরবের প্রধানমন্ত্রী সালমান বিন আবদুল আজিজকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জোটে যোগদানের বিষয়ে রাজি করানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানকে বোঝানো হয়েছিল যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এবং বিএনপি সরকার তাকেও সরিয়ে দেবে।
এরই মধ্যে ১৯ জুলাই ২০২৬ পাঁচ দিনের সরকারি সফরে তুরস্কে যান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। একই দিন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী সালমান বিন আবদুল আজিজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানান।
সেনাপ্রধানের তুরস্ক সফরের সময়ই তারেক রহমানকে রিয়াদে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সৌদি আরবকে জানিয়েছিল, জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে তারেক রহমান রিয়াদ সফর করতে পারেন।
তবে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে ৩০ জুলাই দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোর ঢাকায় আসেন। প্রতিবেদনের দাবি, তার কূটনৈতিক তৎপরতার পরই বাংলাদেশ সাময়িকভাবে ‘মক্কা সামরিক জোটে’ যোগদানের আলোচনা থেকে সরে আসে।
এরপর ৩ আগস্ট ঢাকার জলসিঁড়ি আবাসিক প্রকল্প এলাকায় সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেন। একই সময়ে ভিডিও টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে বরিশাল, সাভার, বগুড়া, সিলেট, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোরে আরও কয়েকটি ইসলামিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। এসব প্রতিষ্ঠান নির্মাণে তুরস্ক সহায়তা ও অর্থায়ন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেদিনই যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডের কমান্ডার অ্যাডমিরাল স্টিফেন টি. কোহলার একটি বড় প্রতিনিধি দল নিয়ে ঢাকায় আসেন। মার্কিন নৌবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা নতুন নিয়োগ পাওয়া নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল খন্দকার মিসবাহ-উল-আজিমের সঙ্গে বৈঠক করেন।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্যাসিফিক কমান্ডের প্রতিনিধি দলের ওই সফরে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ‘মক্কা সামরিক জোটে’ যোগদানের বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়।
এরপর ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা র-এর প্রধান পরাগ জৈন তিন সহকর্মীকে নিয়ে ঢাকায় আসেন। তারা সরকারের কাছে ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’ হস্তান্তর করেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে ‘অগণতান্ত্রিক শক্তির’ উপস্থিতি, ‘মক্কা সামরিক জোট’ এবং সরকার উৎখাতের ‘ষড়যন্ত্র’ সম্পর্কে সরকারপ্রধানকে সতর্ক করা হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
পরাগ জৈনের সফরের পর বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রায় দুই মাস অপেক্ষার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওই বৈঠকের পরপরই ভারত ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে যোগাযোগ শুরু হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২১ আগস্ট রাতে তারেক রহমানের ভারত সফরের প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছিল এবং দিল্লির তাজ প্যালেস হোটেলে তার জন্য একটি কক্ষ বুক করা হয়েছিল।
তবে ১৪ আগস্ট দক্ষিণ সুদান ও আবেইয়ে পাঁচ দিনের সফর শেষে দেশে ফেরেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। সফরে তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
সেনাপ্রধান দেশে ফেরার পরই তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর আগে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার দিনই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ বাংলাদেশে আল-কায়েদার উপস্থিতি এবং ভারতের বিরুদ্ধে তাদের সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে সতর্ক করেছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটির দাবি, ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে অস্বস্তিতে ছিল। তাদের ধারণা ছিল, এই সফরের সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিরাপদে বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টি সম্পর্কিত।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, বাংলাদেশ বর্তমানে রাজনীতিমুক্তকরণের দিকে এগোচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সামরিকীকরণ কেবল সময়ের ব্যাপার। যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো বাংলাদেশের সামরিক কর্তৃপক্ষের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করেছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসব উদ্যোগ সফল হলে তারেক রহমানের ভারত সফরের পর ভারতে নির্বাসিত শেখ হাসিনাকে সম্মানের সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর ফলে রাজনৈতিক সহাবস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারত।
তবে প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও বিতর্কিত কিছু দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অনেক সামরিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ভারতের বিরোধিতার ওপরই সেনাবাহিনীর ‘অস্তিত্ব’ নির্ভর করছে।
মক্কা জোটের সম্ভাব্য কাঠামো নিয়েও প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের স্বার্থ তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইরানের যুদ্ধ সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা হলেও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি প্রতিরক্ষা দেয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সৌদি সামরিক বাহিনীতে বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি সদস্য রয়েছেন। দুর্বল অর্থনীতির দেশ পাকিস্তান সৌদি আরবে ভাড়াটে সেনার সংখ্যা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে মক্কা জোটে যুক্ত হয়েছে বলে এতে দাবি করা হয়েছে। অন্যদিকে তুরস্কের লক্ষ্য অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করা বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিকস সম্মেলনেও একটি সম্ভাব্য ‘ব্রিকস সামরিক জোট’ গঠনের ঘোষণা আসতে পারে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর আগে ‘মক্কা সামরিক জোট’ মূলত ন্যাটোর সমর্থনেই গঠিত হয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত দুই সপ্তাহ ধরে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে মক্কা জোটে যোগ দিলে ‘জান্নাত নিশ্চিত হবে’ এমন প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। মুসলিমদের কাছে মক্কার ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জোটের পক্ষে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে বলে কয়েকটি সামরিক সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে।
কিছু ‘বরখাস্ত’ সামরিক কর্মকর্তাও এই প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রচারণায় বলা হচ্ছে, ‘ভারতের আধিপত্য’ থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হলে ‘মক্কা সামরিক জোটে’ যোগ দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।
তবে প্রতিবেদনের শেষাংশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির একটি বৈপরীত্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ওই দিন জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীই ‘উগ্রবাদী ও অগণতান্ত্রিক শক্তির’ হাত থেকে শেখ হাসিনাকে উদ্ধারে ভারতের সহায়তা চেয়েছিল। সে সময় জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ভারতের তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান এবং সেনাবাহিনীর কয়েকটি ইউনিট, যার মধ্যে গোলন্দাজ বাহিনীর ইউনিটও ছিল, রক্তপাত এড়িয়ে ক্ষমতা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এরপর থেকেই তারা পরোক্ষভাবে দেশ পরিচালনা করে আসছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সূত্রঃ নর্থইস্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au