দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী, বললেন, ‘কার এত জ্বালা?’
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানতে…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে নতুন আইনের প্রস্তাব করেছে নিউজিল্যান্ড সরকার। সোমবার দেশটির পার্লামেন্টে বিলটি উত্থাপন করা হয়। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, মেটার মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম ভঙ্গ করলে তাদের বৈশ্বিক আয়ের ১০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।
এর মধ্য দিয়ে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে শিশু-কিশোরদের দূরে রাখতে আইন প্রণয়নকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হলো নিউজিল্যান্ড।
প্রস্তাবিত আইনকে সমর্থন করে প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কারণে নিউজিল্যান্ডের একটি প্রজন্মের শিশু যে ক্ষতির মুখে পড়ছে, তা মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রতি তিনজনের একজন এখন দিনে অন্তত পাঁচ ঘণ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাটাচ্ছে। এসব প্ল্যাটফর্মে ক্ষতিকর কনটেন্ট, আসক্তি সৃষ্টিকারী প্রযুক্তি এবং এমন নানা ধরনের চাপ রয়েছে, যা মোকাবিলা করার মতো বয়স বা সক্ষমতা অনেক কিশোর-কিশোরীর নেই। এর প্রভাব পড়ছে তাদের পারিবারিক জীবন, মানসিক স্বাস্থ্য, ঘুম ও পড়াশোনায়।
লাক্সন বিশেষভাবে ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ফেসবুকের নাম উল্লেখ করে বলেন, ১৬ বছরের কম বয়সীরা যাতে এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘যৌক্তিক পদক্ষেপ’ নিতে হবে।
বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অ্যাকাউন্টের তথ্য, মুখাবয়ব বিশ্লেষণের মাধ্যমে বয়স অনুমান, ডিজিটাল আইডি সেবা কিংবা সরকারি পরিচয়পত্র ব্যবহারের মতো পদ্ধতি বিবেচনায় রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, প্ল্যাটফর্মগুলোকে তাদের সেবার কারণে শিশু-কিশোরদের তৈরি হওয়া ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং তা কমাতে নেওয়া পদক্ষেপের বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে হবে।
নিউজিল্যান্ডের শিক্ষামন্ত্রী এরিকা স্ট্যানফোর্ড বলেন, প্রস্তাবিত বিলটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি করবে। তবে শিশু, তাদের অভিভাবক বা যত্নকারীদের জন্য কোনো শাস্তির বিধান রাখা হয়নি।
তবে বিলটি শেষ পর্যন্ত পার্লামেন্টে পাস হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল পার্টির দুই জোটসঙ্গী অ্যাক্ট পার্টি ও নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট এর বিরোধিতা করেছে।
নিউজিল্যান্ড ফার্স্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় একই ধরনের আইনের ‘বিরাট ব্যর্থতা’ বিবেচনায় তারা এই প্রস্তাব সমর্থন করতে পারছে না। অ্যাক্ট পার্টির মত, আইনটি কার্যকর হবে না এবং কিশোর-কিশোরীরা সহজেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার পথ খুঁজে নেবে।
অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টি বিলটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এক ডজন প্রশ্নের উত্তর চেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বয়স যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং কোন কোন প্ল্যাটফর্ম এই আইনের আওতায় পড়বে, সে বিষয়গুলো।
লেবার পার্টির মুখপাত্র রুবেন ডেভিডসন বলেন, তারা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তাঁর মতে, নিউজিল্যান্ডের তরুণদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে রয়েছে এবং ক্রমবর্ধমান জটিল অনলাইন পরিবেশে তারা যে ঝুঁকির মুখোমুখি হচ্ছে, তা উদ্বেগজনক।
শিশুদের অনলাইন বুলিং ও ক্ষতিকর অ্যালগরিদম থেকে সুরক্ষার যুক্তিতে অস্ট্রেলিয়া গত বছর ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে।
তবে চলতি বছরের জুনে প্রকাশিত একটি গবেষণায় অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক গবেষকদের একটি দল জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার কারণে কিশোর-কিশোরীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরে গেছে, এমন শক্ত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au