দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী, বললেন, ‘কার এত জ্বালা?’
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানতে…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, এ বিষয়ে সরকারকে রাজনৈতিক সাহসের সঙ্গে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সোমবার ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক মিডিয়া সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সিপিডির আরেক সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান এবং অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ছয় মাসেও সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে না পারার পেছনে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি রয়েছে। চলতি অর্থবছরে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা ধরা হলেও এতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হতে পারে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বেতন কাঠামো নিয়ে যে প্রতিবেদন দিয়ে গেছে, সেটি মূল্যায়ন করে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের একটি সুপারিশ করা হয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট সবাই তা মেনে নিয়েছিলেন। শুরুতেই ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা দিয়ে পরে সময় নেওয়া হলে ভালো হতো। এখন বিষয়টি যেভাবে ঝুলে আছে, তা ভালো হয়নি।
দেবপ্রিয় বলেন, বেতন-ভাতার সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখলে সমস্যা কমবে না। বরং যত দেরি হবে, পরিস্থিতি তত জটিল হবে এবং সরকারের অন্যান্য কাজও এতে বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
ছয় মাসে ৬২ হাজার মানুষের চাকরি গেছে
সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে সিপিডি জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত দেশের তিনটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ৬১ হাজার ৮৮১ জন কর্মী কাজ হারিয়েছেন।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় উত্তরাধিকারসূত্রে বেশ কিছু কাঠামোগত সমস্যা পেয়েছে। একই সময়ে বৈশ্বিক পরিস্থিতিও অনুকূলে ছিল না। পরে যুদ্ধসহ নানা সংকট শুরু হয়।
তবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি ও প্রশাসনের প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে সরকার একটি সমন্বিত তথ্যভিত্তিক দলিল তৈরি করেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এ কারণে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি এখন সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, সরকার বারবার দাবি করছে, তারা একটি খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু কী পরিস্থিতি থেকে দায়িত্ব নেওয়া হয়েছিল, তার সমন্বিত তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন না থাকায় সরকারের বিভিন্ন বক্তব্যের সঙ্গে পরিসংখ্যানের মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন হচ্ছে।
দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নতুন সরকারের কাছে মানুষের দুটি বড় প্রত্যাশা ছিল। একটি অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, অন্যটি সুশাসন প্রতিষ্ঠা। এই দুই ক্ষেত্রেই কিছুটা অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
সংস্কার কর্মসূচিতেও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সরকারের ইশতেহারে যেসব কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলো এখনো বাস্তবায়িত হয়নি বলেও জানান তিনি।
সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বিভিন্ন পদক্ষেপ মূল্যায়ন করতে সিপিডি প্রায় ৩৬২টি পদক্ষেপের তালিকা করেছে। এগুলোকে নয়টি ভাগে বিভক্ত করে ‘রিফর্ম ট্র্যাকার’-এর আওতায় মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
সুশাসনের ক্ষেত্রে ১০৫টি ঘটনা মূল্যায়নের আওতায় রাখা হয়েছে বলে জানায় সিপিডি। এর মধ্যে সরকারি এমপিদের প্লট ও গাড়ি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, রামিসা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পরিবহনব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনার উদ্যোগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সরকারি উচ্চপদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে মনে করছে সিপিডি। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার সরকারি প্রতিশ্রুতিরও কিছু ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au