দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্নে ক্ষুব্ধ প্রতিমন্ত্রী, বললেন, ‘কার এত জ্বালা?’
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি জানতে…
মেলবোর্ন, ২৫ আগষ্ট- রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাসের পরনের শার্ট নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিদ্ধার্থের পরনের শার্টের সঙ্গে রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার প্রধান সনাতন চক্রবর্তীর শার্টের নকশা ও রঙের মিল নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন সিদ্ধার্থের বাবা ও বড় ভাই। তাদের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় সিদ্ধার্থের গায়ে কোনো শার্ট ছিল না, ছিল শুধু গেঞ্জি। পরে পুলিশ যখন তাকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করে, তখন তার গায়ে ওই শার্ট দেখা যায়।
রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় গত শনিবার রাতে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এর মধ্যেই গ্রেপ্তার দুই যুবকের একজন সিদ্ধার্থ দাসের পরনের পোশাক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে সিদ্ধার্থের পরনের শার্ট সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁর বাবা বিনয় দাস ও বড় ভাই পার্থ দাস দাবি করেন, পুলিশ সিদ্ধার্থকে আটক করার সময় তার গায়ে কোনো শার্ট ছিল না।
সিদ্ধার্থের বড় ভাই পার্থ দাস বলেন, ‘রবিবার ভোরে পুলিশ যখন আমার ভাইকে আটক করেছিল, তখন তার গায়ে একটি ঘিয়া রঙের গেঞ্জি ছিল। ওই ধরনের কোনো শার্ট আমার ভাইয়ের কখনোই ছিল না। আমার ভাই কীভাবে ওই শার্টটি পরল, তা আমরা জানি না। এ বিষয়ে পুলিশই ভালো বলতে পারবে।’
সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাসও একই দাবি করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে পুলিশসহ অনেক মানুষ জড়ো হওয়ার পর ভোররাতে পুলিশ তাঁদের বাড়িতে যায় এবং সিদ্ধার্থের খোঁজ করে।
বিনয় দাস বলেন, ‘আমি ওকে চাচার বাড়ি থেকে ঘুম থেকে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দিই। তখন তার গায়ে একটি গেঞ্জি ছিল। পরে পুলিশ যখন তাকে সাংবাদিকদের সামনে আনল, তখন দেখলাম তার গায়ে শার্ট। ওই শার্ট কার? এ ধরনের শার্ট তাকে কখনো পরতে দেখিনি।’
ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বিনয় দাস বলেন, নিরপেক্ষ তদন্তে যদি সিদ্ধার্থ দোষী প্রমাণিত হয়, তাহলে তিনি তার শাস্তি মেনে নেবেন। তবে পুরো ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত চান তিনি।

মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। ছবিঃ সংগৃহীত
শার্ট নিয়ে পুলিশের বক্তব্য
সিদ্ধার্থের পরনের শার্ট নিয়ে ওঠা প্রশ্নের বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার প্রধান সনাতন চক্রবর্তীর বক্তব্যও সামনে এসেছে।
সোমবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসামির পরনের শার্টের রং ও তাঁর নিজের শার্টের রং একই ধরনের। তবে দুটি শার্টের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।
সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ‘আসামির পরনে যে শার্ট ছিল, সেটি দেখতে আমার শার্টের মতোই রং। আমার শার্টটি এখনো আমার গায়ে আছে, আর আসামির শার্টটি তার গায়েই আছে। আমার শার্টটি আড়ং থেকে কেনা। অনেকের কাছেই একই ডিজাইনের শার্ট থাকতে পারে। তবে তার শার্টের সঙ্গে আমার শার্টের কোনো সম্পর্ক নেই।’
তিনি আরও বলেন, একটি মহল বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে এবং এর মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের তদন্তকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে।
এর আগে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবেও একই বিষয়ে বক্তব্য দেন তিনি। নিজের পরনের শার্ট দেখিয়ে সনাতন চক্রবর্তী বলেন, তিনি ঘটনার দিনও একই শার্ট পরেছিলেন। ঘটনাস্থলে থাকা অবস্থায় সাংবাদিকদের তোলা ছবিতেও তাকে ওই শার্টে দেখা যায় বলে জানান তিনি।
তাঁর দাবি, আড়ংয়ের একই ধরনের শার্ট অনেক মানুষের কাছেই থাকতে পারে। তাই শুধু রং বা নকশার মিল দিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
চারজন হত্যাকাণ্ডে দুই যুবক গ্রেপ্তার
গত শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
গণপতি চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। তিনি পরিবার নিয়ে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় বসবাস করতেন। ভবনটির প্রথম ও তৃতীয় তলার নির্মাণকাজ তখনো অসম্পূর্ণ ছিল।
ঘটনার পর রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে রংপুর মহানগর পুলিশ জানায়, চারজনকে হত্যার ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। সম্পর্কে তারা মামাতো-ফুফাতো ভাই।
পুলিশের দাবি, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করা হয়। পরে হত্যাকাণ্ডকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখাতে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র এলোমেলো করে রাখা হয়েছিল।
রোববার ভোরে নগরের দখীগঞ্জ শ্মশান এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। তাদের বাড়ি নিহত পরিবারের বাড়ির আশপাশে।
পুলিশ জানিয়েছে, মুগ্ধ দাস নগরের সিটি বাজারে মাছের দোকানে কাজ করেন। আর সিদ্ধার্থ দাস প্রায় আট বছর ধরে নগরের একটি জুয়েলারি দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করছেন।
পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের শনাক্ত করা হয়। পরে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি
রোববার রাতে গ্রেপ্তার দুই যুবককে রংপুর মহানগর হাকিম রফিকুল ইসলামের আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
এর আগে রাত ৮টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের আদালতে নেওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নির্মল চন্দ্র বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তবে সিদ্ধার্থের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন যে প্রশ্নটি সামনে আনা হয়েছে, গ্রেপ্তারের সময় যদি তাঁর গায়ে শুধু গেঞ্জি থাকে, তাহলে পরে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করার সময় তাঁর গায়ে শার্টটি এল কোথা থেকে?
অন্যদিকে পুলিশ বলছে, শার্টের রং বা নকশার মিল কেবলই একটি কাকতালীয় বিষয় এবং এর সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের তদন্তের কোনো সম্পর্ক নেই।
ফলে শার্টটি কোথা থেকে এসেছে, কে সেটি সিদ্ধার্থকে পরিয়েছিল এবং আটকের সময় থেকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে কারা ছিলেন, এসব বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠলেও এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au