মেলবোর্ন, ০৮ এপ্রিল-
অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে জনবহুল এবং সবচেয়ে পুরনো অঙ্গরাজ্য নিউ সাউথ ওয়েলসে কয়েক হাজার চিকিৎসক ধর্মঘটে নেমেছেন। এতে রাজ্যে চিকিৎসা সেবায় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ধর্মঘটের কারণে সাড়ে তিনশোর বেশি ইলেক্টিভ সার্জারি বাতিল করা হয়েছে। এমনকি অনেক ক্যানসার রোগীর কেমোথেরাপির অ্যাপয়েন্টমেন্টও বাতিল করা হয়েছে।
বেতন এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিয়ে নয় মাস ধরে চলা আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর চিকিৎসকরা এই ধর্মঘটে গেছেন বলে মঙ্গলবার (০৮ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়া ভিত্তিক নিউজ পোর্টাল ‘নাইন নিউজ ডটকম’। এই ধর্মঘট বুধ ও বৃহস্পতিবারও চলতে পারে বলে আভাস মিলেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৮৪ সালের পর চিকিৎসকদের এটাই অন্যতম বড় ধর্মঘট। এদিন সকাল ৮টায় নিউ সাউথ ওয়েলসে প্রায় সাড়ে তিন হাজার চিকিৎসক ধর্মঘট শুরু করেন। এতে চিকিৎসাসেবায় বিপর্যয় দেখা দেয়। মোট ৩৭০টি অস্ত্রোপচার বাতিল করা হয়েছে, ২১টি স্বল্পস্থায়ী শয্যা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং ৩০০০ বহির্বিভাগীয় ক্লিনিকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ঘর্মঘটের কারণে ৪৮৬ জন ক্যানসার রোগীর কেমোথেরাপির অ্যাপয়েন্টমেন্টও প্রভাবিত হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে অনেকের অ্যাপয়েন্টমেন্ট।
ওয়েস্টমিডের শিশুদের চিকিৎসক জ্যাক ম্যাকফারসন ধর্মঘট নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, ডাক্তাররা ধর্মঘট করেন না। আমাদের কর্মী সংখ্যা ক্রমাগত কমে যাচ্ছে। জুনিয়রদের নিয়োগ এবং শূন্যপদ পুনরায় পূরণ করতে পারছি না।
ধর্মঘট ঠেকাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন জানিয়ে নিউ সাউথ ওয়েলস অঙ্গরাজ্যের প্রধান ক্রিস মিনস বলেছেন, ধর্মঘট থামানোর জন্য ১১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘গতকাল বিকেলে আমি তাদের সঙ্গে দেখা করেছিলাম। তবে কোনো সমাধান হয়নি।
ধর্মঘট আগামীকাল এবং বৃহস্পতিবারও অব্যাহত থাকবে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের ডাক্তারদের ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়ান সেলারিড মেডিক্যাল অফিসার্স ফেডারেশন (ASMOF) বলেছিল যে, ধর্মঘটের দিনগুলোতে ইমার্জেন্সি ডিপার্টমেন্ট এবং ইন্টেনসিভ কেয়ার ইউনিটগুলো পাবলিক হলিডে লেভেলের স্টাফিং দিয়ে কাজ করবে।
ঘর্মঘটের কারণে প্যারামেডিকরা দায়িত্ব পালন করছেন। তবে, ধর্মঘটের কারণে জরুরি না এমন চিকিৎসার জন্য প্রতীক্ষার সময় বাড়তে পারে। আগামী তিন দিনের মধ্যে ঐচ্ছিক অস্ত্রোপচারের জন্য নির্ধারিত ব্যক্তিদের তাদের স্বাস্থ্যসেবা পেশাদারদের সঙ্গে দুবার পরীক্ষা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। রাজ্য সরকার বলছে যে এই ঘর্মঘট রোগীদের বিপদে ফেলতে পারে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী রায়ান পার্ক বলেছেন, হাজার হাজার ডাক্তার চাকরি ছেড়ে দিতে হুমকি দিচ্ছে এবং হাসপাতালে না থাকলে রোগীর পরিচর্যার ওপর প্রভাব পড়বে না এটা কেউ বলতে পারে না।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলেছে, ইউনিয়নের ৫০০০ সদস্যের মধ্যে কতজন চাকরি ছেড়ে দেবেন তা তারা জানে না, তবে ৩২টি হাসপাতাল এতে প্রভাবিত হতে পারে। চিকিৎসকদের ইউনিয়ন সংগঠন ASMOF’ বলেছে, তাদের কর্মীদের সংখ্যা কম থাকা সত্ত্বেও রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
ASMOF-এর নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু হল্যান্ড বলেন, আমাদের সদস্যরা জরুরি ও নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটগুলিতে নিরাপদ কর্মী থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনিয়ন অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে বেতন সমতা চাইছে, যার অর্থ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি করতে হবে। তবে রাজ্য সরকার ১০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে। নয় মাসেরও বেশি সময় ধরে এ আলোচনা চললেও তা সমাধানে আসা যায়নি।