ফ্লাইট সংকটে ভ্রমণ পরিকল্পনা বদলাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ানরা, ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২০ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ায় বিমানভাড়া হঠাৎ বেড়ে যাওয়া এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কমে যাওয়ার কারণে অনেক যাত্রী তাদের ভ্রমণ ও কর্মপরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।
অপ্রত্যাশিত অস্ত্রোপচারের পর পরিবারকে দেখতে চীন সফরের পরিকল্পনা করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নের বাসিন্দা রোজ এবং তার ছেলে। তবে টিকিট পরিবর্তনের সময় যে খরচ সামনে আসে, তাতে তারা বিস্মিত হয়ে পড়েন।
নিজের নাম গোপন রাখতে ইচ্ছুক এই মেলবোর্নের মা জানান, প্রায় এক মাস আগে তিনি ও তার ছেলে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত ফ্লাইটে যাতায়াতের টিকিট কিনেছিলেন, যার দাম ছিল প্রতি জনের জন্য প্রায় ৫০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার।
কিন্তু পরবর্তীতে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স এবং ট্রিপ ডটকমের মাধ্যমে যাত্রার তারিখ পরিবর্তন করতে চাইলে দেখা যায়, টিকিটের দাম বেড়ে চার গুণ হয়ে গেছে।
রোজ বলেন, “আমি জানতে পারি নতুন টিকিটের দাম একজনের জন্য ২০০০ ডলারেরও বেশি।” সঙ্গে রিশিডিউল ফি যোগ হওয়ায় এটি তার জন্য একেবারেই অস্বাভাবিক ব্যয় হয়ে দাঁড়ায়, ফলে চিকিৎসা সেরে ওঠার পরও তিনি টিকিট পরিবর্তন করতে পারেননি।
তিনি জানান, তার অফিসে ছুটি আগে থেকেই মাসখানেক আগে নিতে হয়। তাই যাত্রা বাতিল করলে শুধু টাকা নয়, ছুটির দিনও হারাতে হবে। তিনি বলেন, “জ্বালানি দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়ায় আবার কখন যেতে পারব জানি না। আমার ছেলেও খুব হতাশ হবে।”
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান ভাড়া ওঠানামা করছে। কিছু এয়ারলাইন্স ভাড়া কমালেও, অন্যদিকে অনেক রুটে টিকিটের দাম তিন গুণ পর্যন্ত বেড়েছে।
ক্রিস্টাল ঝাং, যিনি বিমান চলাচল বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, জানান-যাত্রী চাহিদা, আসন প্রাপ্যতা এবং জ্বালানি মূল্যের কারণে এয়ারলাইন্সগুলো নিয়মিতভাবে ভাড়া সমন্বয় করছে।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে চীনা এয়ারলাইন্সগুলো অস্ট্রেলিয়া-চীন রুটে একাধিক ফ্লাইট বাতিল করেছে এবং চাহিদা বেশি এমন অন্য রুটে ফ্লাইট সরিয়ে নিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক বিমান ভ্রমণ বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায়।