আজমুল হত্যা মামলায় চারজনের নাম, নেই গ্রেপ্তার
খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অন্যতম…
ইতালির স্কুলগুলোতে মুখ ঢাকা বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ এবং প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে শিগগিরই মন্ত্রিসভার বৈঠকে একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।
রোববার নিজের দল ব্রাদার্স অব ইতালির যুব শাখার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব পরিকল্পনার কথা জানান জর্জিয়া মেলোনি। তিনি বলেন, স্কুলে শিক্ষার্থীদের একীভূতকরণ নিশ্চিত করতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ভাষাগত সহায়তার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা আইনগতভাবে নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে প্রতিটি শ্রেণিতে ঠিক কতজন বিদেশি শিক্ষার্থী থাকতে পারবেন, তা এখনো নির্দিষ্ট করেননি মেলোনি।
তিনি বলেন, কোনো শ্রেণিতে যদি মাত্র একজন শিশু থাকে, যে ইতালীয় ভাষা বোঝে না, তাহলে সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহায়তায় সে দ্রুত ভাষাটি শিখতে এবং সমাজের সঙ্গে একীভূত হতে পারে। কিন্তু ইতালীয় ভাষা না জানা শিক্ষার্থীর সংখ্যা যদি একটি শ্রেণিতে অনেক বেড়ে যায়, এমনকি সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে যায়, তাহলে সেটিকে আর যথাযথ একীভূতকরণ বলা যায় না।
নতুন পরিকল্পনায় স্কুল ব্যবস্থায় একীভূত হতে গুরুতর সমস্যার মুখে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখার বাধ্যবাধকতাও আরোপের কথা বলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে মনে করা হচ্ছে, অভিভাবকদের ভাষাগত দক্ষতা বাড়লে শিশুদের স্কুল ও সমাজের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হতে পারে।
এ ছাড়া স্কুলে মুখ ঢাকা বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মেলোনি। তিনি বলেন, স্কুলে শিক্ষার্থীদের মুখ খোলা রাখতে হবে। ইতালির কোনো বাস্তব বা কথিত ঐতিহ্যের অজুহাতে কোনো তরুণীকে মুখ ঢেকে রাখতে বাধ্য করা যেতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মধ্য ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানের কারণে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান পথ ইতালি। ফলে দেশটিতে অভিবাসন দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত একটি বিষয়। বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের সমাজের মূলধারায় একীভূত করা, ধর্মীয় পোশাক ও প্রতীক এবং নাগরিকত্বের নিয়ম নিয়ে দেশটিতে নানা বিতর্ক রয়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফোন্দাজিওনে আইএসএমইউর তথ্য অনুযায়ী, ইতালির স্কুলগুলোতে ভর্তি শিক্ষার্থীদের ১১ দশমিক ৬ শতাংশ ইতালীয় নাগরিক নন। অর্থাৎ প্রতি ১০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ১২ জন বিদেশি নাগরিক।
মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার এর আগে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন এই শিক্ষা-সংক্রান্ত উদ্যোগের মাধ্যমে স্কুল পর্যায়ে ভাষা শিক্ষা, সামাজিক একীভূতকরণ এবং ধর্মীয় পোশাকের বিষয়ে সরকারের নীতিকে আরও কঠোর করার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পর এর সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি স্পষ্ট হবে।
সূত্র : রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au