প্রিমিয়ার লিগে মুখোমুখি হওয়া ২৫ দলের বিপক্ষেই গোল হালান্ডের
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নতুন এক মাইলফলক গড়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজীয় স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে গোল করে প্রিমিয়ার লিগে এখন পর্যন্ত যেসব দলের মুখোমুখি হয়েছেন,…
বান্দরবানের থানচি উপজেলার সীমান্তবর্তী দুর্গম মদক এলাকায় হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে থুই মা চিং মার্মা নামে ৪২ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। একই এলাকায় আরও অন্তত ৩০ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকটের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাবার স্যালাইনের ঘাটতি থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় আক্রান্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে থানচির মদক বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মদক ভিতরপাড়া গ্রামে থুই মা চিং মার্মা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তার মৃত্যুর পর একই এলাকায় আরও অন্তত ১০ জনের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি বিজিবির নজরে আসে। পরে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়ে।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর মদক বিওপির ব্যবস্থাপনায় একজন মেডিক্যাল সহকারী প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়ে দুর্গম এলাকায় পৌঁছান। সেখানে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হয়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় দুর্গম এলাকার আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আলীকদম ব্যাটালিয়ন, ৫৭ বিজিবির উদ্যোগে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় করা হয়। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি মেডিক্যাল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দেয়।
তবে এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ অব্যাহত থাকায় ২০ সেপ্টেম্বর রোববার আবারও চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে ৫৭ বিজিবি। আলীকদম ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের দিকনির্দেশনায় ব্যাটালিয়নের চিকিৎসা কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত এ কার্যক্রমে আক্রান্ত ও অসহায় স্থানীয় নৃগোষ্ঠীর মানুষকে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রীও বিতরণ করা হয়।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হঠাৎ ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং দুর্গমতার কারণে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার পাশাপাশি স্থানীয়দের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং বিশুদ্ধ পানি ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে স্থানীয় পাড়া কারবারি, হেডম্যান, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিজিবি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আলীকদম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মেহেদী বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্গম সীমান্তবর্তী পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবন-জীবিকা, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণে ৫৭ বিজিবির এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, ‘অপারেশন উত্তরণ’-এর আওতায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকার স্থানীয় নৃগোষ্ঠীর মানুষের পাশে থেকে চিকিৎসাসেবা ও মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে বিজিবির পারস্পরিক আস্থা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au