রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচনের পর ভোট গণনা চলছে। ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। ছবি: এএফপি
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই রাশিয়ার পার্লামেন্ট নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ক্ষমতাসীন দল ইউনাইটেড রাশিয়া। প্রায় সব ভোট গণনার পর দলটি ৫৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে এবং ৪৫০ আসনের স্টেট ডুমায় ৩৫৫টি আসন পেতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন।
২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর এটিই ছিল রাশিয়ার প্রথম পার্লামেন্ট নির্বাচন। ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর তিন দিন ধরে ভোট গ্রহণ চলে। নির্বাচনের শেষ দিনে মস্কো ও আশপাশের এলাকায় ইউক্রেনের বড় ধরনের ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটে।
প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ইউনাইটেড রাশিয়া ৩৫৫টি আসন পেলে স্টেট ডুমায় তাদের সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরও শক্তিশালী হবে। ২০২১ সালের নির্বাচনে দলটি ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে ৩২৬টি আসন পেয়েছিল।
এবার কমিউনিস্ট পার্টি পেয়েছে প্রায় ১৩ দশমিক ৮৪ শতাংশ ভোট এবং এলডিপিআর পেয়েছে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ। নিউ পিপলস পার্টিও সংসদে আসন পেতে যাচ্ছে।
নির্বাচনটি নিয়ে বিরোধীদের অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বেশ কয়েকজন যুদ্ধবিরোধী প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। উদারপন্থী ইয়াবলোকো পার্টিও জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি।
রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের পাশাপাশি ক্রিমিয়াতেও ভোট নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেন ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পক্ষ এসব অঞ্চলে রাশিয়ার আয়োজিত ভোটকে স্বীকৃতি দেয় না।
রোববার ভোট গ্রহণের শেষ দিনে মস্কো ও আশপাশের অঞ্চলে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালানো হয় বলে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিনের দাবি, যুদ্ধ শুরুর পর রাজধানী লক্ষ্য করে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় হামলা।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় ১ হাজার ৬০০টির বেশি ড্রোন প্রতিহত বা ধ্বংস করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪৫০টি মস্কোকে লক্ষ্য করে পাঠানো হয়েছিল। হামলায় অন্তত দুজন নিহত হন এবং মস্কো অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারেও আগুন লাগে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলার প্রশংসা করে বলেন, মস্কো অঞ্চলে ইউক্রেনের দূরপাল্লার পাল্টা হামলার ‘উল্লেখযোগ্য প্রভাব’ পড়েছে।

রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলেও এবার ভোট হয়েছে। দোনেৎস্কের একটি ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার পর বেরিয়ে আসছেন এক নারী। ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। ছবি: এএফপি
ড্রোন হামলার পর ইউক্রেনে আরও তীব্র হামলার হুমকি দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অভিযোগ করেছে, ইউক্রেন রাশিয়ার নাগরিকদের ‘গণতান্ত্রিক ইচ্ছাকে ব্যাহত’ করার চেষ্টা করেছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার অভ্যন্তরে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার জবাবে কিয়েভের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা আরও জোরদার করা হবে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ইউক্রেনের ইজমাইল বন্দর, দুটি পণ্যবাহী জাহাজ এবং বিভিন্ন সামরিক ও সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
নির্বাচনের সময় সাইবার হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান এলা পামফিলোভা বলেন, হামলাগুলো অত্যন্ত দক্ষ ও সমন্বিত গোষ্ঠী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে চালিয়ে থাকতে পারে।
তবে নির্বাচন কর্তৃপক্ষের দাবি, সাইবার হামলা ও ড্রোন হামলার মধ্যেও তিন দিনের ভোট গ্রহণ কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি।
রাশিয়ার এই নির্বাচনকে পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি জনগণের সমর্থনের একটি পরীক্ষা হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। অন্যদিকে বিরোধী ও সমালোচকেরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ফলাফল অনুযায়ী, ইউনাইটেড রাশিয়া আবারও স্টেট ডুমায় বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখছে। একই সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে দুই দেশের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: এএফপি