‘শেখ হাসিনা কী বলছেন, তা তাঁর নিজের বিষয়’: হর্ষবর্ধন শ্রিংলা
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা এবং তাঁর সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে মন্তব্য করেছেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব ও রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।…
মেলবোর্ন, ০৩ জুলাই— পানি নিয়ে ভারতের একতরফা অবস্থান ও ষড়যন্ত্রমূলক পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে পাকিস্তান সরকার পানি সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। খবর পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের।
মঙ্গলবার জাতীয় জরুরি পরিচালনা কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত সিন্ধু পানি চুক্তিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে, যা পাকিস্তানের জন্য গুরুতর হুমকি।
তিনি বলেন, “শত্রুরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পানি চুক্তির অপব্যবহার করতে চাইছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, দেশের পানি সংরক্ষণের সক্ষমতা আমরা নিজেরাই গড়ে তুলব।”
শাহবাজ শরীফ জানান, এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ডায়ামার-ভাশা বাঁধসহ অন্যান্য বৈধ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের আন্তঃপ্রাদেশিক পানি চুক্তিতেও এই ধরনের পানি সংরক্ষণ কাঠামো গড়ে তোলার বিধান রয়েছে।
এর আগে ভারত কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার ঘটনায় পাকিস্তানকে দোষারোপ করে একতরফাভাবে ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখে। পাকিস্তান এই পদক্ষেপকে যুদ্ধ ঘোষণার সমতুল্য বলে উল্লেখ করে এবং জানায়, এই চুক্তিতে একতরফাভাবে স্থগিত রাখার কোনো বিধান নেই।
ইসলামাবাদ জানায়, ভারত চুক্তি লঙ্ঘন করে ১৯৬৯ সালের ভিয়েনা কনভেনশন ট্রিটিজ লঙ্ঘন করেছে এবং তারা আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার কথা ভাবছে।
এরমধ্যে হেগের পার্মানেন্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশন (পিসিএ) রায় দিয়েছে যে, ভারত চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত রাখতে পারে না।
শাহবাজ শরীফ বলেন, “পানি নিয়ে এই সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত প্রস্তুতি এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
তিনি বলেন, ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় পাকিস্তান সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ছিল। ওই বছর এক হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, বিপুল পরিমাণ জমি ও ঘরবাড়ি ভেসে যায়, এবং দেশের অর্থনীতিতে প্রায় ৩০ বিলিয়ন রুপির ক্ষতি হয়।
তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তান গ্রীনহাউজ গ্যাস নির্গমনে প্রায় কিছুই যোগ না দিলেও জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শিকার দেশগুলোর একটি।”
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানান, আবহাওয়া সতর্কতা এবং দুর্যোগ সংক্রান্ত বার্তা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জনগণকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন অথরিটির সঙ্গে সমন্বয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পাশাপাশি, গ্রীষ্মপ্রবাহের কারণে হিমবাহ গলে যাওয়ার ঘটনাগুলোর উপরও নজরদারি জোরদার করা হবে। সোয়াতে সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় মূল্যবান প্রাণহানির কথা উল্লেখ করে শাহবাজ শরীফ বলেন, “এই ঘটনা পুরো জাতিকে শোকগ্রস্ত করেছে।”
তিনি বলেন, প্রাদেশিক পর্যায়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুঃখজনক ঘটনা এড়ানো যায়।
জাতীয় জরুরি পরিচালনা কেন্দ্রের কার্যক্রম নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিষ্ঠান দেশের অর্থনীতি ও সামাজিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দেশটির সরকার এই কেন্দ্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রাদেশিক পর্যায়ে সংযুক্তির জন্য সর্বাত্মক সহায়তা দেবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au