বাংলাদেশ

রেকর্ড বৃষ্টিতে ডুবতে বসেছে বাংলাদেশের ফেনী শহর

  • 7:16 pm - July 08, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১৬৪ বার
ঘরবাড়ি ও সড়ক তলিয়ে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ফেনী শহরবাসী; ছবিঃ বার্তা২৪

ঢাকা, ৮ জুলাই-

ফেনীতে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৩৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের মধ্যে সর্বোচ্চ। টানা দুই দিনের মাঝারি ও ভারী বর্ষণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে গেছে। এতে দোকানপাট, ঘরবাড়ি ও সড়ক তলিয়ে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শহরবাসী। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই বৃষ্টিপাত আগামী দুই-তিন দিন অব্যাহত থাকতে পারে, যার ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (৮ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৩৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণে শহরের ডাক্তারপাড়া, শহীদ শহিদুল্লা কায়সার সড়ক, পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস, শাহীন একাডেমি এলাকা, পাঠানবাড়ি, নাজির রোড, মিজান রোড, সদর হাসপাতাল মোড় ও পেট্রোবাংলাসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। নিচু সড়ক ও দোকানপাটে পানি ঢুকে নষ্ট হচ্ছে মালপত্র।

ক্ষতিগ্রস্তদের একজন, পৌর হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ী আবদুর রহমান ফারহান বলেন, ‘‘সকাল থেকে দোকানে পানি ঢুকে জিনিসপত্র নষ্ট হচ্ছে। গেল বছরের বন্যার ক্ষতি এখনো ঠিকভাবে কাটিয়ে উঠতে পারিনি। বর্ষা মৌসুমের আগে যদি শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল করা হতো, তাহলে এত ক্ষতির মুখে পড়তে হতো না।’’

ছাগলনাইয়ার আবদুল হক ডিগ্রি কলেজের এক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, ‘‘দুপুর ২টা থেকে অনার্স চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা। টানা বৃষ্টি আর পানির মধ্য দিয়ে কীভাবে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাব জানি না। কর্তৃপক্ষ যদি পরীক্ষা স্থগিত করতেন, তাহলে অনেক উপকার হতো।’’

ফেনী পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মো. বাতেন বলেন, অতিবৃষ্টি ও অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে এই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃষ্টি থামলে পানি নেমে যাবে। তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় পৌরসভার সাতটি টিম কাজ করছে।

এর আগে, ২০২৪ সালের জুন-জুলাইয়ে ফেনীতে টানা ভারী বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। সেই সময় ফেনী ও মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠে গিয়ে ছাগলনাইয়া, পরশুরাম, ফুলগাজী ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে বাধ্য হন; ক্ষতিগ্রস্ত হয় ফসল, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা ত্রাণ বিতরণ ও বাঁধ মেরামতের কাজ করলেও দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। পাহাড়ি ঢল ও নদীর দুর্বল ব্যবস্থাপনা সেই বন্যাকে আরও ভয়াবহ করে তোলে, যার ক্ষতচিহ্ন এখনো ফেনীর মানুষের জীবনে স্পষ্ট।

চলমান এই বৃষ্টিপাত এবং জলাবদ্ধতা সেই ভয়াবহ স্মৃতিকে নতুন করে মনে করিয়ে দিচ্ছে স্থানীয়দের, আর স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।

সুত্রঃ ঢাকা পোস্ট

এই শাখার আরও খবর

বিজয়া দশমীতে সিঁদুরের রঙে আনন্দ, দেবী বিদায়ে বিষাদ

ওটিএন বাংলা ডেস্ক :  ছয় দিনের পূজা-অর্চনা শেষে বিদায়ের পালা দেবী দুর্গার। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে শেষ অর্ঘ্য নিবেদন, দর্পণ বিসর্জন ও ঘট বিসর্জনের মধ্য…

‘পাপের লাশ দেশে আসুক চাই না’ মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চাইলেন বিএনপির এমপি

সৌদি আরবে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিরোধিতা করে ‘পাপের লাশ দেশে আসুক চাই না’ মন্তব্য করেছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের…

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান কি ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে?

সামরিক কৌশল, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে একসঙ্গে চাপে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাত, আঞ্চলিক মিত্রদের…

মাগুরায় যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ

মাগুরা পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাকের হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে মাগুরা বাস টার্মিনালের রয়েল এক্সপ্রেস কাউন্টার…

ভক্তি, ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মহিমায় সিডনিতে দর্পণের শারদীয় দুর্গোৎসব

শতদল তালুকদার, সিডনি- শরতের স্নিগ্ধ আবহ, দেবীবন্দনার পবিত্র অনুরণন আর বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যের আবাহনে সিডনিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। দর্পণ কালচারাল অ্যান্ড রিলিজিয়াস…

কুমিল্লাজুড়ে মাদকের ভয়াবহ থাবা, ২০০ হটস্পটে চলে বেচাকেনা

কুমিল্লার সীমান্ত দিয়ে দেদারছে ঢুকছে মাদক। পরে ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন এলাকায়। জেলার ১৮টি থানায় অন্তত ২০০টি হটস্পটে চলছে মাদক কেনাবেচা। সীমান্তের অর্ধশতাধিক পথ ব্যবহৃত…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au