কোনো ওয়েবসাইটের ‘অল অ্যাকসেপ্ট’ অপশন নির্বাচন করলে সব ধরনের কুকি সক্রিয় হয়। ছবি: গুগল
মেলবোর্ন, ১৮ সেপ্টেম্বর- অনলাইনে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলেই প্রায়শই দেখা যায় কুকিজ–সংক্রান্ত একটি পপ-আপ বার্তা। সেখানে ‘অল অ্যাকসেপ্ট’ বা ‘অল রিজেক্ট’ বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকে। অনেকেই এটিকে সামান্য অসুবিধা ভেবে এড়িয়ে যান। তবে কুকিজ আসলে কী এবং এটি কীভাবে কাজ করে—তা জানা জরুরি, কারণ এগুলো অনলাইন গোপনীয়তার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
কুকি কী?
কুকিজ হচ্ছে ছোট ডেটা ফাইল, যা ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীর ডিভাইসে সংরক্ষণ করে। মূল উদ্দেশ্য হলো ব্রাউজিং অভিজ্ঞতাকে সহজ ও ব্যক্তিগতকরণ করা।
বিশেষজ্ঞরা কুকিজকে চার ভাগে ভাগ করেছেন—
- প্রয়োজনীয় কুকি: লগইন, শপিং কার্টের মতো মৌলিক কাজের জন্য অপরিহার্য।
- ফাংশনাল কুকি: ভাষা বা অঞ্চল পছন্দ মনে রাখে।
- অ্যানালিটিকস কুকি: ব্যবহারকারীর ব্রাউজিং–সংক্রান্ত পরিসংখ্যান সংগ্রহ করে।
- বিজ্ঞাপন কুকি: ব্যবহারকারীর অনলাইন অভ্যাস ট্র্যাক করে লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন দেখায়।
কুকি গ্রহণ করলে ওয়েবসাইট ব্যবহার সহজ হয় এবং ব্যক্তিগতকরণ করা কনটেন্ট পাওয়া যায়। তবে এতে বিজ্ঞাপনদাতারা অনলাইন কার্যকলাপ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারে।
অন্যদিকে, প্রয়োজনীয় কুকি বাদে সব প্রত্যাখ্যান করলে গোপনীয়তা বজায় থাকে, যদিও অনেক সময় সাইট সঠিকভাবে কাজ করে না।
২০১৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিডিপিআর আইন চালুর পর থেকেই কুকি নোটিশের ব্যবহার বেড়েছে।
প্রতিটি ওয়েবসাইটে কুকি পপ-আপ দেখা অনেক ব্যবহারকারীকে ‘কনসেন্ট ফ্যাটিগে’ ফেলেছে। তাই অনেকে না ভেবেই ‘অল অ্যাকসেপ্ট’ বেছে নেন। এই সমস্যার সমাধানে ‘গ্লোবাল প্রাইভেসি কন্ট্রোল (জিপিসি)’ নামের নতুন প্রযুক্তি চালু হয়েছে, যা ব্রাউজার থেকেই ব্যবহারকারীর গোপনীয়তার সংকেত পাঠাতে পারে। তবে এখনো এর ব্যবহার সীমিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুকিজ নিজে ক্ষতিকর নয়, তবে এর মাধ্যমে গোপনীয়তার ঝুঁকি তৈরি হয়। তাই প্রয়োজনীয় কুকি গ্রহণ করা যেতে পারে, কিন্তু অপ্রয়োজনীয় কুকি প্রত্যাখ্যান করাই উত্তম। একই সঙ্গে ব্রাউজারের সেটিংস থেকে কুকি মুছে ফেলা, সাইটভিত্তিক অনুমতি পর্যালোচনা করা এবং প্রাইভেসি–টুল ব্যবহার করাকে তারা গুরুত্ব দিয়েছেন।