মেলবোর্ন, ২৮ সেপ্টেম্বর- প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা মানবাকৃতি বা হিউম্যানয়েড রোবট তৈরিতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সিটিও (চিফ টেকনোলজি অফিসার) অ্যান্ড্রু বসওয়ার্থ এক সাক্ষাৎকারে এই প্রকল্পের বিস্তারিত জানান।
বসওয়ার্থ বলেন, রোবট তৈরির সবচেয়ে বড় বাধা হার্ডওয়্যার নয়, বরং সফটওয়্যার। দক্ষভাবে জিনিসপত্র ধরতে বা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম করা রোবোটিকস গবেষণার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, “রোবট দাঁড়াতে, দৌড়াতে বা ডিগবাজি খেতে পারে, কিন্তু একটি গ্লাস ধরতে গেলে সেটা ভেঙে ফেলতে পারে বা পানি ফেলে দিতে পারে।”
মেটা ইতিমধ্যেই নিজেদের হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি করছে, যার নাম ‘মেটাবট’। তবে বসওয়ার্থ স্পষ্ট করেন, তাদের মূল লক্ষ্য কেবল নিজস্ব রোবট নয়; বরং এমন একটি অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করা, যা যেকোনো রোবট নির্মাতা ব্যবহার করতে পারবে—গুগলের অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মের মতো।
মেটার নতুন সুপার ইন্টেলিজেন্স এআই ল্যাব রোবটিকস দলের সঙ্গে মিলে কাজ করছে ‘ওয়ার্ল্ড মডেল’ তৈরিতে। এই সফটওয়্যার রোবটকে সুনির্দিষ্টভাবে হাত নড়াচড়া শিখাবে। বিশেষভাবে তৈরি ‘ডেক্সটারাস হ্যান্ড’ দিয়ে রোবট জটিল ও সূক্ষ্ম কাজ করতে পারবে।
টেসলার হিউম্যানয়েড রোবট ‘অপটিমাস’ প্রসঙ্গে বসওয়ার্থ বলেন, টেসলার ডেটা সংগ্রহের পদ্ধতি তিনি বোঝেন, তবে রোবটের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ডেটা কীভাবে পাওয়া সম্ভব হবে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।
এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন স্কেল এআই-এর সাবেক সিইও আলেক্সান্ডার ওয়াং। দলে যুক্ত হয়েছেন এমআইটির প্রখ্যাত রোবোটিকস বিজ্ঞানী স্যাংবে কিম, ওরিয়ন এআর গ্লাসেসের সফটওয়্যার আর্কিটেক্ট জিনসঙ ইউ, এবং মেটার অভিজ্ঞ রোবোটিকস ইঞ্জিনিয়ার নিং লি। পুরো দলটি পরিচালনা করছেন ক্রুজের (Cruise) সাবেক সিইও মার্ক হুইটেন।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, মেটার এই বিনিয়োগ মানবাকৃতি রোবট গবেষণায় নতুন যুগের সূচনা করতে পারে। তবে চ্যালেঞ্জ থাকবে সফটওয়্যার উন্নয়ন ও বাস্তব জীবনের জটিল কাজ সামলাতে রোবটকে যথেষ্ট দক্ষ করে তোলায়।
সূত্র: দ্য ভার্জ