সজীব ওয়াজেদ জয়। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৪ অক্টোবর- বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা এবং পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, সাম্প্রতিক আন্দোলনের শুরুতে হাসিনা সরকারের কিছু প্রাথমিক ভুল ছিল। তবে আন্দোলন দমনে সরকারের নৃশংসতা এবং প্রাণহানির যে সংখ্যা জাতিসংঘ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, তিনি তার সঙ্গে একমত নন।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদসংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয় বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে আন্দোলনে প্রায় এক হাজার চারশ মানুষ নিহত হয়েছে। কিন্তু সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টার তথ্য অনুযায়ী মৃত্যু হয়েছে প্রায় আটশ মানুষের। তিনি বলেন, প্রত্যেকটি মৃত্যুই অত্যন্ত দুঃখজনক এবং প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। তবে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন কেন সহিংস আন্দোলনে জড়িত ব্যক্তিদের দায়মুক্তি দেওয়া হলো এবং কারা এই সিদ্ধান্ত নিল।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জয় অভিযোগ করেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এক ধরনের রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক অভিযান শুরু করেছে। তিনি বলেন, এই সরকার পরিকল্পিতভাবে হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে এক ধরণের ‘উইচ-হান্ট’ চালাচ্ছে। তার দাবি, চলমান প্রক্রিয়ার লক্ষ্য হচ্ছে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রাখা।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশে যদি রাজনৈতিক অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হয়, তবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে উগ্রপন্থী গোষ্ঠী। তার মতে, প্রফেসর ইউনূস আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে একটি কারসাজিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের চিন্তা করছেন, কিন্তু কোনো প্রধান রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে তা হবে প্রহসন এবং জনগণ সেটি মেনে নেবে না। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরাও তখন সেই নির্বাচনকে বৈধতা দেবে না।

এখনো পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়। ছবি: সংগৃহীত
জয় বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক, অবাধ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন না হলে দেশ দীর্ঘ সময় রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল থাকবে। তিনি আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে এবং নির্বাচন আয়োজনের আগে আওয়ামী লীগসহ সবাইকে যথেষ্ট প্রস্তুতির সময় দিতে হবে। তা না হলে জনগণ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবে না।
এ ছাড়া জয় মনে করেন, বর্তমানে যা ঘটছে তা মূলত শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের নেতাদের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে রাখার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। এটি তার ভাষায় ন্যায়বিচারের আড়ালে রাজনৈতিক কারসাজির অংশ। তিনি বলেন, “আমার মা এবং আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে বিরত রাখার চেষ্টা চলছে। এটি শুধুই রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।”
সুত্রঃ এপি