ফিল্ড ফায়ারিং মহড়ায় দুর্ঘটনা, দুই সৈনিক নিহত
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় দুই সৈনিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক সেনাকর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য…
মেলবোর্ন, ২৪ অক্টোবর- প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েটদের সরকারি চাকরিতে বিশেষ নিয়োগ এবং বয়সসীমা বাড়ানোর দাবিতে ঢাকার রাজু ভাস্কর্য থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা পর্যন্ত পদযাত্রার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে তারা যাত্রা শুরু করলেও শাহবাগ মোড়ে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়। ফলে পদযাত্রা আর এগোতে পারেনি।
রাজু ভাস্কর্য এলাকা থেকে প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েটদের একটি বড় দল প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিতে দিতে এগোচ্ছিল। অনেকেই হুইলচেয়ারে ছিলেন, কেউ লাঠির সাহায্যে বা সহযাত্রীর কাঁধ ধরে হাঁটছিলেন। শাহবাগে পৌঁছানোর পর পুলিশ ব্যারিকেড তৈরি করে পথ বন্ধ করে দেয়। আন্দোলনকারীদের অনেকে ব্যারিকেড সরানোর চেষ্টা করেন, কিছু এলাকায় ধস্তাধস্তির ঘটনাও দেখা যায়। তবে বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটেনি।
এই প্রতিবন্ধী যুবকদের আন্দোলন নতুন নয়। তারা গত ১৯ অক্টোবর থেকে টানা পাঁচ দিন ধরে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে তারা থালা-বাটি হাতে ‘ভুখা মিছিল’ করে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন। সরকারি চাকরিতে বয়সসীমা বাড়ানো এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য পৃথক নিয়োগ ব্যবস্থার দাবি তুলে ধরছেন তারা।
আন্দোলনকারীদের মধ্যে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন চাকরিপ্রত্যাশী প্রতিবন্ধী গ্র্যাজুয়েট পরিষদের আহ্বায়ক মো. আলী হোসেন। তিনি বলেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে যমুনার দিকে যাচ্ছিলেন, কিন্তু পুলিশ তাদের বাধা দিয়েছে। তার ভাষায়, “আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। আমরা কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, শুধু ন্যায্য অধিকার চাই।”
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব আলিফ হোসেন, ডাকসুর সদস্য ও যুগ্ম আহ্বায়ক রাইসুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ কামরুজ্জামান, আব্দুল ওয়াহেদ, কামাল হোসেন পিয়াস এবং প্রতিনিধি আজাদ হোসেনসহ আরও অনেকে। শাহবাগ এলাকায় কিছুক্ষণ অবস্থান নিয়ে তারা সড়কের একাংশে বসে স্লোগান দিতে থাকেন।
চলমান আন্দোলনে তারা মূলত সরকারি নিয়োগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আলাদা সুযোগ, বিশেষ কোটার সংরক্ষণ, শ্রুতিলেখক নিয়োগে স্বাধীনতা এবং বয়সসীমা ৩৫ বছরে উন্নীত করার মতো দাবি তুলে ধরেছেন। তারা মনে করেন, শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাদের শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনে অনেক প্রতিবন্ধকতা থাকে; তাই বয়সসীমা ও নিয়োগনীতিতে বিশেষ ব্যবস্থা ন্যায্য অধিকার হিসেবেই পাওয়া উচিত।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা যাতে প্রোটোকল এলাকা তথা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে না পারেন, সে কারণে আগেই ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। তবে পরিস্থিতি যেন উত্তপ্ত না হয়ে ওঠে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত শাহবাগেই তারা অবস্থান নিয়ে পরবর্তী কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত তারা অবস্থান ছাড়বেন না এবং প্রয়োজনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au