২০২৩ সালের শেষ দিকে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন শুরু হলে চারজন শ্রমিক নিহত হন, বহু শ্রমিক আহত হন এবং শতাধিক কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৪ অক্টোবর- বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দুই বছর আগে মজুরি আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া ও মামলা করা প্রায় ৪৮ হাজার পোশাক শ্রমিকের বিরুদ্ধে সব ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শ্রমিক অধিকারকর্মীরা এই সিদ্ধান্তকে শ্রমিক আন্দোলন, ট্রেড ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক সংহতির জন্য “একটি বিরাট বিজয়” বলে অভিহিত করেছেন।
২০২৩ সালের শেষ দিকে ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন শুরু হলে চারজন শ্রমিক নিহত হন, বহু শ্রমিক আহত হন এবং শতাধিক কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় ১৩০ জনের বেশি শ্রমিককে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে কারখানা মালিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রমাণ ছাড়াই হাজার হাজার শ্রমিকের বিরুদ্ধে ভাঙচুর থেকে হত্যা পর্যন্ত নানা অভিযোগে গণমামলা দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে সরকার নতুন ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার ৫০০ টাকা ঘোষণা করলেও এটি শ্রমিকদের দাবি করা ২৩ হাজার টাকার তুলনায় অনেক কম ছিল। শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বলেছিল, এই মজুরিতে জীবনযাপন চালানো সম্ভব নয়।
শ্রমিক অধিকারকর্মীরা বলেন, এসব মামলা ছিল শ্রমিকদের আন্দোলন দমিয়ে রাখার একটি কৌশল। ক্লিন ক্লোথস ক্যাম্পেইন (CCC), ওয়ার্কার রাইটস কনসোর্টিয়াম এবং সলিডারিটি সেন্টারসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়েছে, তারা এমন অন্তত ৪০টির বেশি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড শনাক্ত করেছে যাদের সরবরাহকারী কারখানাগুলো শ্রমিকদের বিরুদ্ধে এসব ভিত্তিহীন মামলা করেছে।
ট্রেড ইউনিয়ন নেত্রী কালপনা আক্তার বলেন, “এটি শুধু বাংলাদেশের শ্রমিকদের নয়, পুরো বিশ্বের ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের জন্য এক বিশাল জয়।”
ক্লিন ক্লোথস ক্যাম্পেইনের মতে, ভিত্তিহীন এসব মামলার ভয় দেখানো শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা ঠেকিয়ে দেয়, অথচ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো শ্রমিকদের পাশে না দাঁড়িয়ে বরং নীরব ছিল।
এর আগে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, আন্তর্জাতিক শ্রমিক অধিকার গ্রুপ এবং বৈশ্বিক পোশাক ব্র্যান্ডগুলোকে চাপ সৃষ্টি করে এসব মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। অবশেষে সব মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তে আন্দোলনকর্মীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে পোশাক খাতে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, সংগঠিত হওয়ার স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংহতির গুরুত্ব আবারও সামনে উঠে এসেছে।
সুত্রঃ বিসনেস এন্ড হিউমান রাইটস রিসোর্স সেন্টার