মেলবোর্ন, ৩১ জানুয়ারি- আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের অংশ হিসেবে সোমালিয়ায় এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে তুরস্ক। বৃহস্পতিবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই পদক্ষেপকে সোমালিয়ায় আঙ্কারার দীর্ঘদিনের সামরিক ও কৌশলগত সম্পৃক্ততার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তুরস্ক সোমালিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের অন্যতম। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে সামরিক প্রশিক্ষণ, নিরাপত্তা সহায়তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা দিয়ে আসছে আঙ্কারা। নতুন করে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েনের মাধ্যমে অঞ্চলটিতে নিজেদের নিরাপত্তা ও প্রভাব আরও সুসংহত করার ইঙ্গিত দিল তুরস্ক।
এক সরকারি কর্মকর্তা সংক্ষেপে বলেন, “তুরস্ক সোমালিয়ায় এফ-১৬ জেট মোতায়েন করেছে।” তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা বলেন, এসব যুদ্ধবিমান সোমালিয়ায় অবস্থানরত তুর্কি সামরিক কন্টিনজেন্টের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, এটি তুরস্কের নিজস্ব নিরাপত্তার স্বার্থে করা হয়েছে এবং বিমানগুলো সোমালি কর্মীরা পরিচালনা করবেন না।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে তুরস্ক তাদের সবচেয়ে বড় বিদেশি সামরিক ঘাঁটি উদ্বোধন করে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে একটি টাস্কফোর্স ও একটি এয়ার কম্পোনেন্ট কমান্ড মোতায়েন রয়েছে। এর লক্ষ্য হলো সামরিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও পরামর্শমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সোমালিয়ার সন্ত্রাসবিরোধী সক্ষমতা বাড়ানো।
এই সামরিক মোতায়েন এমন এক সময়ে এলো, যখন তুরস্ক সম্প্রতি ইসরায়েলের পক্ষ থেকে স্বঘোষিত প্রজাতন্ত্র সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার তীব্র সমালোচনা করেছে। আঙ্কারা একে ‘সোমালিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ’ বলে আখ্যা দেয়।
১৯৯১ সালে স্বৈরশাসক সিয়াদ বারের পতনের পর সোমালিয়া গভীর বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত হলে সোমালিল্যান্ড নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। এরপর থেকে অঞ্চলটি স্বায়ত্তশাসিতভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং তাদের নিজস্ব মুদ্রা, সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনী রয়েছে। তুলনামূলকভাবে সোমালিল্যান্ডে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলেও মূল সোমালিয়ায় ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী আল-শাবাব নিয়মিতভাবে মোগাদিশুতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মোতায়েনের মাধ্যমে তুরস্ক শুধু সোমালিয়ায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি শক্তিশালী করল না, বরং আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর একটি স্পষ্ট বার্তাও দিল।
সুত্রঃ এএফপি