মোহাম্মদ বিন সালমান। ছবি: রয়টার্স
মেলবোর্ন, ০২ মার্চ- মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একাধিকবার ফোন করে ইরানে হামলার জন্য চাপ দিয়েছেন। প্রকাশ্যে তিনি কূটনৈতিক পন্থার পক্ষে ছিলেন, কিন্তু অন্তরঙ্গভাবে ইরানের বিরুদ্ধে তৎপর ছিলেন।
শনিবার সকালে ইরানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা নিহত হন। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার নেপথ্যে সৌদি আরব এবং ইসরায়েলের যৌথ প্রভাব কাজ করেছে।
প্রতিবেদনটি প্রকাশের সূত্র হিসেবে চারজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। যদিও গত জানুয়ারিতে যুবরাজ ঘোষণা করেছিলেন, সৌদি আরব তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা করতে দেবেন না এবং তারা তেহরান ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চান।
তবে সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে ট্রাম্পকে ফোন করে সৌদি যুবরাজ তদবির চালিয়েছেন। এছাড়া ইরানে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে ইসরায়েলও। প্রভাবিত হয়ে ট্রাম্প ইরানে হামলার সিদ্ধান্ত নেন এবং জানিয়েছেন, ভারি বোমা হামলা যতদিন প্রয়োজন চলবে।
সৌদি আরবের উদ্দেশ্য মূলত তাদের তেল অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখা। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ইরান এবং সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, শিয়া অধ্যুষিত ইরান ও সুন্নি অধ্যুষিত সৌদি আরবের বৈরী সম্পর্ক মধ্যপ্রাচ্যে ছায়াযুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের হামলার জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, কাতারের দোহা এবং সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদেও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। রিয়াদ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে হামলার নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ইরানের বিরুদ্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “কোনও অজুহাতে বা কোনওভাবেই ইরানের হামলাকে ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। সৌদি আরব তাদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানকে টার্গেট করতে কাউকে দেবে না।”
আরব নিউজের খবরে বলা হয়েছে, হামলার পর সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান, বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ঈসা আল-খলিফা, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি, কুয়েতের আমির শেখ মিশাল আল-আহমাদ আল-জাবের আল-সাবাহ এবং জর্ডনের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে এই সংঘাতের মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুতি ও সংহতি জানান।
মোহাম্মদ বিন সালমান স্পষ্ট করেছেন, “ইরানের নৃশংস হামলার প্রতিশোধ নিতে সৌদি আরব তাদের সমস্ত সম্পদ কাজে লাগাতে প্রস্তুত, যা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করেছে।”