ইরানে আজ ‘সবচেয়ে তীব্র হামলা’ চালানোর হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
মেলবোর্ন, ১১ মার্চ- ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে আজ সবচেয়ে তীব্র হামলা চালানো হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর দশম…
মেলবোর্ন, ১১ মার্চ- যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছে ওপেনএআই। এমন এক সময় এই ঘোষণা এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেডারেল সংস্থাগুলোকে প্রতিদ্বন্দ্বী এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি ব্যবহার অবিলম্বে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
শুক্রবার রাতে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান চুক্তির বিষয়টি প্রকাশ করেন। এর কয়েক ঘণ্টা আগে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অ্যানথ্রপিকের চলমান আলোচনা ভেস্তে যায়।
জানা গেছে, অ্যানথ্রপিক চেয়েছিল তাদের ক্লাউডভিত্তিক প্রযুক্তি যেন গণহারে অভ্যন্তরীণ নজরদারি বা মানবীয় নিয়ন্ত্রণ ছাড়া পরিচালিত প্রাণঘাতী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থায় ব্যবহার না করা হয়। তবে এই শর্তে ঐকমত্য না হওয়ায় পেন্টাগনের সঙ্গে তাদের চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।
চুক্তি ঘোষণার সময় স্যাম অল্টম্যান বলেন, ওপেনএআইয়ের সঙ্গে হওয়া সমঝোতায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে তাদের প্রযুক্তি গণহারে অভ্যন্তরীণ নজরদারি বা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, তাদের দুটি প্রধান নিরাপত্তা নীতি হলো দেশের ভেতরে গণ নজরদারির নিষেধাজ্ঞা এবং বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে মানবীয় দায়িত্ব নিশ্চিত করা, বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থার ক্ষেত্রে। অল্টম্যান দাবি করেন, পেন্টাগন এসব নীতির সঙ্গে একমত হয়েছে এবং চুক্তিতে তা প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে পেন্টাগন যেন সব এআই প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে একই ধরনের শর্ত প্রযোজ্য করে, যাতে আইনি জটিলতা ও সরকারি দ্বন্দ্ব এড়িয়ে যৌক্তিক সমঝোতায় পৌঁছানো যায়।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে অ্যানথ্রপিকের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি লিখেছেন, অ্যানথ্রপিকের বামপন্থী উগ্রপন্থীরা পেন্টাগনকে তাদের শর্ত মানতে বাধ্য করার চেষ্টা করে বড় ভুল করেছে। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, সব ফেডারেল সংস্থাকে অবিলম্বে অ্যানথ্রপিকের প্রযুক্তি ব্যবহার বন্ধ করতে নির্দেশ দেওয়া হবে।
এদিকে অ্যানথ্রপিক এক বিবৃতিতে জানায়, গণ অভ্যন্তরীণ নজরদারি বা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থার বিষয়ে তাদের অবস্থান কোনও চাপ বা শাস্তির মুখেও পরিবর্তন হবে না। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আইনসম্মত সব ধরনের এআই ব্যবহারে তারা সমর্থন দিয়েছে, তবে দুটি সীমিত ব্যতিক্রম রেখেছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে ওপেনএআইয়ের অভ্যন্তরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রায় ৫০০ জন ওপেনএআই ও গুগলের কর্মী একটি খোলা চিঠিতে সই করে বলেছেন, তারা বিভক্ত হতে চান না। তাদের অভিযোগ, পেন্টাগন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ওপর আলাদা চাপ তৈরি করে শর্ত শিথিল করানোর চেষ্টা করছে।
কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় স্যাম অল্টম্যান লেখেন, বিষয়টি এখন শুধু অ্যানথ্রপিক ও পেন্টাগনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো এআই শিল্পখাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই ওপেনএআই মনে করে এআই প্রযুক্তি গণ নজরদারি বা স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্রে ব্যবহার করা উচিত নয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে মানুষের নিয়ন্ত্রণ থাকা অপরিহার্য। এগুলোই তাদের প্রধান নীতিগত সীমারেখা।
এদিকে ওপেনএআই জানিয়েছে, তারা বর্তমানে ১১০ বিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই বিনিয়োগ সম্পন্ন হলে কোম্পানিটির সম্ভাব্য মূল্যায়ন দাঁড়াতে পারে প্রায় ৮৪০ বিলিয়ন ডলার, যা প্রযুক্তি খাতে অন্যতম বড় অর্থায়ন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au