যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত: অস্ট্রেলিয়া কি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে?
মেলবোর্ন, ৯ মার্চ: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ক্রমবর্ধমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে অস্ট্রেলিয়া সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা…
মেলবোর্ন, ৯ মার্চ- আরব উপদ্বীপের উত্তর প্রান্তের নেফুদ মরুভূমিতে আবিষ্কৃত হয়েছে প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার বছর আগের মানুষের পায়ের ছাপ। শুকিয়ে যাওয়া এক প্রাচীন জলাশয়ের তলায় পাওয়া এই পদচিহ্ন মানব ইতিহাস ও বিবর্তন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে গবেষকদের সামনে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে সৌদি আরবের নেফুদ মরুভূমি পৃথিবীর সবচেয়ে শুষ্ক অঞ্চলের একটি। তবে অতীতে এই অঞ্চল এমন ছিল না। ভূতাত্ত্বিক তথ্য অনুযায়ী, শেষ প্লাইস্টোসিন যুগে সেখানে ছিল সবুজ ঘাসে ভরা ভূমি এবং বহু মিষ্টি জলের হ্রদ। সেই সময় জল ও খাদ্যের সন্ধানে মানুষ ও বিভিন্ন প্রাণী এই অঞ্চলে আসত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি নেফুদ মরুভূমির আলাথার এলাকায় প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের সময় একটি শুকিয়ে যাওয়া প্রাচীন হ্রদের কাদামাটির স্তরে জীবাশ্মে পরিণত হওয়া পায়ের ছাপের সন্ধান পান গবেষকরা। কাদায় পড়া এই পদচিহ্নগুলো পরবর্তীতে মাটির বিভিন্ন স্তরের নিচে চাপা পড়ে শক্ত হয়ে শিলায় পরিণত হয়। ফলে হাজার হাজার বছর পরও সেই ছাপ অক্ষত অবস্থায় রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর কেমিক্যাল ইকোলজির গবেষকরা ওই স্থানে মোট ৩৭৬টি পদচিহ্ন শনাক্ত করেছেন। এর মধ্যে সাতটি মানুষের পায়ের ছাপ বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বাকি ৩৬৯টি পদচিহ্ন হাতি, উটসহ বিভিন্ন প্রাণীর। এর মধ্যে বিলুপ্ত প্রজাতির সোজা দাঁতওয়ালা হাতি প্যালিওলক্সোডন রেকির পদচিহ্নও পাওয়া গেছে।
অবক্ষেপ স্তরের লুমিনেসেন্স ডেটিং পদ্ধতি ব্যবহার করে গবেষকরা এই পদচিহ্নগুলোর বয়স নির্ধারণ করেছেন প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার বছর। গবেষকদের মতে, আরব উপদ্বীপে হোমো স্যাপিয়েন্স বা আধুনিক মানুষের উপস্থিতির এটি অন্যতম প্রাচীন প্রমাণ।
তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, ওই স্থানে মানুষের বসবাসের কোনো সরঞ্জাম, পাথরের অস্ত্র বা কঙ্কাল পাওয়া যায়নি। তাই বিজ্ঞানীদের ধারণা, এটি মানুষের স্থায়ী বসতির স্থান ছিল না। সম্ভবত জল ও খাদ্যের খোঁজে যাত্রাপথে আদিম মানুষরা সাময়িকভাবে এই জলাশয়ের পাশে এসেছিল।
পদচিহ্নগুলোর গঠন বিশ্লেষণে দেখা গেছে স্পষ্ট গোড়ালি, পায়ের খিলান এবং আঙুলের বিন্যাস, যা আধুনিক মানুষের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিলে যায়। পদক্ষেপের দৈর্ঘ্য ও পায়ের আকার বিশ্লেষণ করে গবেষকরা ধারণা করছেন, অন্তত দুই বা তিনজন মানুষ একসঙ্গে এই অঞ্চলের মধ্য দিয়ে হেঁটেছিলেন।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, এই পদচিহ্ন নিয়ান্ডারথাল মানুষের নয়। কারণ প্রায় এক লাখ ১৫ হাজার বছর আগে আরব উপদ্বীপে নিয়ান্ডারথালদের উপস্থিতির কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে গবেষকদের সিদ্ধান্ত, এগুলো হোমো স্যাপিয়েন্সেরই পদচিহ্ন।
এই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার নিয়ে বিস্তারিত গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্সেস–এ। বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার প্রাচীন মানুষের আফ্রিকা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তারের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au