বাংলাদেশ

হেলমেট নিয়ে কথা–কাটাকাটির জেরে এক পরিবারের ১৩ গুলিবিদ্ধ

  • 9:36 pm - March 09, 2026
  • পঠিত হয়েছে:২৪২ বার
হেলমেট নিয়ে কথা–কাটাকাটির জেরে এক পরিবারের ১৩ গুলিবিদ্ধ, আহত ১৪। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ৯ মার্চ- মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালানো নিয়ে কথা–কাটাকাটির জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের নারী, শিশু ও পুরুষ মিলিয়ে ১৪ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার রুদ্রপাড়া গ্রামে।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মিজান খান, তাঁর মা মিনু বেগম, ফুপু জয়তন বেগম ও শাফি বেগম, বাবা খোরশেদ খান, চাচা ইদ্রিস খান, ফুফাতো বোন ফাহিমা, ভাবি কাজল বেগম, নুপুর আক্তার ও বর্ণা আক্তার, ভাতিজা আয়ান ও মোস্তাকিন, ভাতিজি দোলন ও ইভা আক্তার। মিজান ছাড়া সকলকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, হামলার অভিযোগ উঠেছে হারুন খান ও তাঁর ভাতিজা মান্নান খানের বিরুদ্ধে। ঘটনায় জানা যায়, রাত নয়টার দিকে মিজান খান হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। তখন হারুন ও মান্নান রাতের সময় হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালানোর বিষয়টি নিয়ে তাকে বাধা দেন। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হারুন ও তাঁর সহযোগীরা মিজানকে মারধর করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় মিজান বাড়িতে ফিরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান।

এরপর মিজানের বাবা খোরশেদ খান ছেলের অবস্থা দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে হারুন ও মান্নানের নাম ধরে গালিগালাজ করেন। তখন হারুন ও মান্নান ১০–১৫ জনকে নিয়ে মিজানের বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় শটগান দিয়ে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়া হয়। এতে বাড়িতে থাকা নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শংকর কুমার পাল জানান, রাত ১২টার পর ১৪ জন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসে। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনের শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সকলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহত রফিকুল খানের অভিযোগ, এলাকায় হারুন ও মান্নান মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। হেলমেট পরা কাউকে দেখলে তারা পুলিশ ভেবে ভয় পান। এ কারণে হেলমেট পরে মোটরসাইকেল চালাতে কেউকে দেওয়া হয় না এবং প্রায়ই মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। গুলিবিদ্ধদের কাতরাতে থাকা অবস্থায় হামলাকারীরা কাউকে হাসপাতালে নিতে দিচ্ছিলেন না। পরে রাত ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

ঘটনার পর রুদ্রপাড়া গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুয়েল মিয়া বলেন, হামলার ঘটনায় হারুন, মান্নান ও মহসিনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি একনলা বন্দুক ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। উভয় অস্ত্রই বৈধ। মামলার প্রক্রিয়া চলমান।

 

এই শাখার আরও খবর

ডিসেম্বরে নতুন মজুরি কাঠামোর আশ্বাস: তবুও কেন ‘অনিশ্চয়তায়’ শ্রমিকরা

তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কাঠামো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত করে জানুয়ারি থেকে বর্ধিত বেতন দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। বুধবার (৪ নভেম্বর)…

পর্যটক আসার খবরে সেন্টমার্টিনে ফিরেছে ঈদের আনন্দ

দুই বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে আবারও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হওয়ার অপেক্ষায় দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন। পর্যটন মৌসুম সামনে রেখে দ্বীপের ব্যবসায়ী, জেলে, হোটেল-মোটেলকর্মী, নৌযান শ্রমিকসহ বিভিন্ন…

দরপতনের আশঙ্কা ভারতীয় রুপির

বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ কমে যাওয়া, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের চাপে আগামী কয়েক মাসে আরও দর হারাতে পারে ভারতীয় রুপি। সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রাটির…

সৌদি আরবে ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যার সতর্কতা

সৌদি আরবের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বজ্রসহ বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও শিলাবৃষ্টির আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ। একই সঙ্গে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে…

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই রাজনীতিক জনপ্রতিনিধি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁরা হলেন জর্জিয়ার স্টেট সিনেটর শেখ রহমান এবং কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর এমডি…

স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ গৃহবধূর মৃত্যু, চার দিন লড়াইয়ের পর শেষ নিঃশ্বাস

পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর দেওয়া আগুনে দগ্ধ হওয়ার চার দিন পর মারা গেছেন তিন সন্তানের জননী ইখতারা সরকার (৩০)। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে ঢাকার জাতীয়…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au