যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন; ছবি সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১১ মার্চ- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সোমবার টেলিফোনে কথা বলেছেন। ওই আলোচনায় ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেন সংকট এবং বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। একই সময় বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করার বিষয়টিও বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন।
ক্রেমলিন জানিয়েছে, চলতি বছরে দুই নেতার মধ্যে এটি প্রথম টেলিফোন আলাপ। এতে ইরানের যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার জন্য রাশিয়ার প্রস্তাব, ইউক্রেনের সামরিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক তেলবাজারে বিভিন্ন দেশের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়।
ফ্লোরিডায় নিজের গলফ ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, পুতিনের সঙ্গে তাঁর আলোচনা ইতিবাচক হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “আমি প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে খুব ভালো কথা বলেছি। তিনি ইরান ইস্যুতে সহযোগিতা করতে চান।” তবে তিনি পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিতে বলেছেন। তাঁর ভাষায়, “আমি তাকে বলেছি, ইরানের বিষয়ে সাহায্যের চেয়ে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ শেষ করাই আরও বেশি সহায়ক হবে।”
এই ফোনালাপের কয়েক ঘণ্টা আগে পুতিন সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের সংকট তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়বে।
ইরান সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক তেল উৎপাদক উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়, যা ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর সৃষ্ট পরিস্থিতির পর সবচেয়ে বড় মূল্যবৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন রাশিয়ার তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বৈশ্বিক বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কমালে তা ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে দিতে পারে এবং যুদ্ধ থামাতে পশ্চিমা কৌশলকে দুর্বল করতে পারে।
সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ক্ষেত্রে বিস্তৃত ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট দেশের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। যেমন, ভারত যেন যুক্তরাষ্ট্রের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা শুল্কের ভয় ছাড়াই রাশিয়ার তেল কিনতে পারে, সে ধরনের ব্যবস্থাও বিবেচনায় রয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ভারতকে সমুদ্রপথে থাকা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কিনতে অনুমতি দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ার ফলে জ্বালানি সংকট সামাল দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এদিকে ক্রেমলিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক সহকারী ইউরি উশাকভ বলেছেন, ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে আলোচনাটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে আরও বাস্তবসম্মত কাজের ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়া প্রয়োজন এবং এর জন্য যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথ খুঁজে বের করা দরকার। উশাকভের মতে, ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর অগ্রগতি কিয়েভকে আলোচনার মাধ্যমে সংঘাতের সমাধানের দিকে এগোতে উৎসাহিত করতে পারে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, ইউক্রেন সংঘাত এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা একসঙ্গে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ও পুতিনের সাম্প্রতিক আলোচনা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সূত্রঃ দ্য জাপানিজ টাইমস