নিরাপদ পানি বঞ্চিত বাংলাদেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ, ঝুঁকিতে শিশুস্বাস্থ্য
মেলবোর্ন, ২২ মার্চ- বাংলাদেশের প্রায় ১০ কোটিরও বেশি মানুষ এখনও নিরাপদ পানীয় জলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য বিশেষ করে শিশুদের জন্য বড় ধরনের…
মেলবোর্ন, ২১ মার্চ- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে চলমান সামরিক অভিযান ধীরে ধীরে গুটিয়ে আনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ইরানি তেল পরিবহনের ওপর থেকে সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে এ দুই সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ সামরিক অভিযান এখন লক্ষ্যপূরণের খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে। তাই এ অভিযান গুটিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এটিই এখন পর্যন্ত যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে ট্রাম্পের সবচেয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত।
এর কিছুক্ষণ পর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, শুরু থেকেই এ অভিযানের সময়সীমা চার থেকে ছয় সপ্তাহ হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। ফলে সামরিক লক্ষ্য অর্জনের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলেই এই অবস্থান নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগ জানায়, ইতিমধ্যে জাহাজে তোলা ইরানি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এসব তেল খালাস ও বিক্রি করা যাবে। তবে নতুন করে তেল কেনাবেচার ক্ষেত্রে এই ছাড় প্রযোজ্য হবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ইরান সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব ও ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইসরায়েলও তেহরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এতে করে সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।
একই সময়ে ভারত মহাসাগরের দিয়াগো গার্সিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝপথে বিকল হয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও অন্যটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়। এই হামলার মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সাফল্যের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। তিনি দাবি করেন, ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা এখনো অক্ষুণ্ণ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে তুলে ধরছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের জ্বালানি অবকাঠামোতে নতুন করে হামলা হলে ইরান কোনো ধরনের সংযম দেখাবে না।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায়ই যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, কেবল ইতিমধ্যে পরিবহনের পথে থাকা তেলের ক্ষেত্রেই এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
অন্যদিকে ইরান বিশ্বজুড়ে বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও হামলার হুমকি দিয়েছে। দেশটির সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন, শত্রুদের জন্য এসব স্থান আর নিরাপদ নাও থাকতে পারে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে।
রাশিয়াও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানে হামলার ফলে আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং এর প্রভাব আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
এদিকে সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় সৌদি আরব তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। উভয় দেশই এ হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
সব মিলিয়ে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নরম সুর এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি কিছুটা প্রশমিত করবে নাকি নতুন কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au