বাংলাদেশ

আশ্বাস বাস্তবায়নে ব্যর্থ ইউনূস সরকার, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মলিন ঈদ

  • 4:46 am - March 22, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৫৬ বার
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মলিন ঈদ। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২২ মার্চ- দেশজুড়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপনের আনন্দের মধ্যেও কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে ঈদের আবহ ছিল বিষণ্ন। বছরের পর বছর ধরে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা এবারও কাটালেন অনিশ্চয়তা, কষ্ট আর হতাশায় ভরা ঈদ। আর তাদের এই অবস্থার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া আশ্বাস বাস্তবায়নে ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন অনেকে।

গত রমজানে শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সামনে আশার বার্তা দিয়েছিলেন প্রফেসর ইউনূস। তিনি বলেছিলেন, এমন এক সময় আসবে যখন রোহিঙ্গারা নিজেদের মাটিতে ফিরে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও সেই আশ্বাসের বাস্তব প্রতিফলন দেখা যায়নি। ফলে এবারের ঈদও কাটল শরণার্থী শিবিরের গণ্ডির মধ্যেই।

শনিবার সকাল ৮টার পর উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে শিশুদের মধ্যে কিছুটা আনন্দ দেখা গেলেও প্রাপ্তবয়স্কদের মুখে ছিল স্পষ্ট হতাশা আর বেদনার ছাপ। রাখাইনে নির্যাতনের স্মৃতি, স্বজন হারানোর কষ্ট এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তাদের ঈদের আনন্দকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে।

ঈদের জামাত শেষে মোনাজাতে অনেককে আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়। ইমাম ও মুসল্লিরা নির্যাতনের বিচার কামনা করেন এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তবে তাদের প্রধান প্রত্যাশা ছিল নিজ দেশে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন, যা এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।

কুতুপালং ক্যাম্পের বাসিন্দা সৈয়দ আলম বলেন, ঈদ এলেও আগের মতো আনন্দ নেই। নিজের দেশে পরিবারের সঙ্গে ঈদ পালন আর শরণার্থী শিবিরে ঈদ করার মধ্যে বিশাল পার্থক্য। আগে পূর্বপুরুষদের কবর জিয়ারত করার সুযোগ ছিল, এখন সেটিও নেই। এই বেদনাই সবচেয়ে বড় কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শরণার্থী ক্যাম্পের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের কর্মকর্তারা জানান, ঈদ উপলক্ষে ক্যাম্পগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। শান্তিপূর্ণভাবে জামাত সম্পন্ন হলেও শিবিরজুড়ে মানুষের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা লক্ষ্য করা গেছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্থবির থাকায় তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা দিন দিন বাড়ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতার কারণে রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হচ্ছে। ফলে শরণার্থীদের সামনে যে আশার কথা বলা হয়েছিল, তা বাস্তব রূপ না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা আরও গভীর হচ্ছে।

এই শাখার আরও খবর

শত শত প্রাণহানির পরও থামছে না গণপিটুনি, বিচার নিয়ে প্রশ্ন

বাংলাদেশে গণপিটুনিতে প্রাণহানির ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে এ ধরনের সহিংসতায় শত শত মানুষের মৃত্যু হলেও আলোচিত অনেক হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো শেষ হয়নি। সরকার…

বন্ডাই হামলার অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ, মুক্তি পাচ্ছেন দণ্ডিত আইএস সদস্য

অস্ট্রেলিয়ার বন্ডাই বিচে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত নাভিদ আকরামের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ থাকা দণ্ডিত ইসলামিক স্টেট (আইএস) সদস্য আইজ্যাক এল মাতারি আগামী রোববার কারাগার থেকে…

বছরে এক লাখ বাংলাদেশি কর্মী নেওয়ার সম্মতি দেয়নি জাপান

বাংলাদেশ থেকে বছরে এক লাখ কর্মী নেওয়ার বিষয়ে জাপান সরকার সম্মতি দিয়েছে বলে দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া খবর নাকচ করেছে টোকিও।…

সৌদি আরবে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি হুতিদের

সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে তেল স্থাপনা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও একটি সামরিক কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে এক দিনে ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে…

তাহসিফ সৌরির মৃত্যু: কিছু প্রশ্ন, প্রোপাগান্ডার অভিযোগ এবং বিচারের দাবি

সজীব ওয়াজেদ জয় :  রহস্যজনক মৃত্যুর মাত্র তিন মাস আগে এক পডকাস্টে তাহসিফ সৌরি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তার ওপর নেমে আসা ভয়াবহ…

এবার আওয়ামী লীগ নেত্রীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যা করলো কারা?

ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : চট্টগ্রাম নগরীর সদরঘাট এলাকার বাসা থেকে আওয়ামী লীগের নেত্রী নুর নাহার বেগমের (৭৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাসার পেছনের দরজা খোলা…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au