পশ্চিমবঙ্গের নিখোঁজ পরিচালক উৎসব মুখোপাধ্যায় সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে
মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় উল্টোডাঙা এলাকা থেকে শেষবার মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর প্রায় ১৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও খোঁজ মেলেনি চলচ্চিত্র নির্মাতা উৎসব…
মেলবোর্ন, ৩ এপ্রিল- ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সম্পাদিত বহুল আলোচিত বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নতুন করে পর্যালোচনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চুক্তির শর্তাবলি ও বিদ্যুতের মূল্য নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এবার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, চুক্তির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এতে কিছু অস্বাভাবিক শর্ত এবং তুলনামূলক উচ্চমূল্যের বিষয় রয়েছে, যা দেশের জন্য আর্থিকভাবে চাপ তৈরি করছে।
মন্ত্রী জানান, ২০১৭ সালে ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ার (ঝাড়খণ্ড) লিমিটেডের সঙ্গে ২৫ বছর মেয়াদি এই বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি সম্পাদিত হয়। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে শুরু থেকেই এই চুক্তির স্বচ্ছতা, শর্তাবলি এবং বিদ্যুতের মূল্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও সমালোচনা ছিল।
চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তারা চুক্তির প্রতিটি দিক বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতামতও গ্রহণ করেন।
জাতীয় কমিটির পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, চুক্তিতে নির্ধারিত বিদ্যুতের দাম তৎকালীন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় বেশি। এছাড়া কিছু শর্ত বাংলাদেশের জন্য অসম ও অস্বাভাবিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কারণে চুক্তিটি বর্তমানে দেশের জন্য একটি বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছে সরকার।
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সংসদকে জানান, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দুটি বিকল্প পথ বিবেচনা করছে। প্রথমত, চুক্তির বিতর্কিত বিষয়গুলো আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে তুলে ধরে আইনগত সমাধান খোঁজা। দ্বিতীয়ত, আদানি পাওয়ারের সঙ্গে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে চুক্তির শর্ত সংশোধন এবং বিদ্যুতের মূল্য কমানোর চেষ্টা করা।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে দেশের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। কোনো অবস্থাতেই দেশের আর্থিক ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে না বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।
সব মিলিয়ে, আদানি গ্রুপের সঙ্গে এই বিদ্যুৎ চুক্তি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ দেশের জ্বালানি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে, সরকার শেষ পর্যন্ত কোন পথ বেছে নেয় এবং চুক্তির শর্ত ও মূল্য কতটা পরিবর্তন করা সম্ভব হয়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au