মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ৮ এপ্রিল- যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছানোর মধ্যেই শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের মোড় নেয় পরিস্থিতি। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র ৯০ মিনিট আগে ইরানে সম্ভাব্য সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য আরও দুই সপ্তাহ সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত জানান।
এর আগে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান গ্রহণযোগ্য কোনো চুক্তিতে না এলে “একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যেতে পারে”। তবে শেষ মুহূর্তে এই অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি জানান, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি কার্যকর ভিত্তি তৈরি হয়েছে, যার ওপর সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।
এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনার পরই হামলা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, পাকিস্তানের অনুরোধে এবং ইরান যদি দ্রুত ও নিরাপদভাবে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়, তাহলে দুই সপ্তাহের জন্য হামলা বন্ধ রাখা হবে। এই সময়কে তিনি “দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি” হিসেবে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির দিকে এগিয়ে গেছে। তিনি আরও জানান, ইরানের পক্ষ থেকে একটি ১০ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা আলোচনার জন্য কার্যকর ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তার মতে, অতীতের বেশিরভাগ মতবিরোধ ইতোমধ্যেই মিটে গেছে এবং এই অতিরিক্ত সময় চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাদের প্রস্তাবে এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে জাহাজ চলাচল, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনা প্রত্যাহার, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ ফেরত দেওয়া। এছাড়া যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে তেহরান।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, সব সামরিক ইউনিটকে আপাতত যুদ্ধবিরতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এটিকে যুদ্ধের সমাপ্তি নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম, যিনি আগে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে ছিলেন, তিনি কূটনৈতিক সমাধানের আশা প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালীতে ইরানের আগের পদক্ষেপের জন্য দেশটিকে কোনো ধরনের সুবিধা দেওয়া উচিত নয়।
অন্যদিকে সাবেক মার্কিন নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল রবার্ট হারওয়ার্ড এই যুদ্ধবিরতিকে ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, যদি ইরান সত্যিই হরমুজ প্রণালী খুলে দেয় এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হয়, তাহলে এটি আন্তর্জাতিক বাজার ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় অর্জন হবে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও উন্মুক্ততা। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই প্রণালীকে ঘিরে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au