খর্বশক্তির নিউজিল্যান্ডের কাছেই হেরে গেল বাংলাদেশ
মেলবোর্ন, ১৮ এপ্রিল- মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে অপ্রত্যাশিত হারে শুরু করেছে বাংলাদেশ। শীর্ষ বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ছাড়া দল…
মেলবোর্ন, ১৭ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল রাজনীতিতে অভিবাসন নীতি ও প্রতিরক্ষা ব্যয় ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জোটের প্রস্তাবিত অভিবাসন নীতিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী জন হাওয়ার্ড ও ওয়ান নেশন নেত্রী পলিন হ্যানসন-এর অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।
জোটের পক্ষে অভিবাসন নীতির প্রথম ধাপ উন্মোচন করে অ্যাঙ্গাস টেলর বলেন, অস্ট্রেলিয়ার উচিত “মূল্যবোধের ভিত্তিতে” অভিবাসন নির্ধারণ করা। তিনি ভিসা আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই জোরদার এবং ভিসা মেয়াদোত্তীর্ণদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের আইসিই-এর আদলে একটি বিশেষ বাহিনী গঠনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
তবে সমালোচকদের মতে, এই নীতিতে স্পষ্টতার অভাব রয়েছে। জোটের নেতারা বারবার প্রশ্নের মুখে পড়লেও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি মূলত অভিবাসনবিরোধী ভোটারদের আকৃষ্ট করার কৌশল, যারা সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ান নেশন দলের দিকে ঝুঁকছিলেন।
এদিকে পলিন হ্যানসন নিজেই এই নীতির কৃতিত্ব দাবি করে বলেন, জোট তার নীতির পথেই এগোচ্ছে। তিনি মন্তব্য করেন, “তারা যদি আমার নীতি নেয়, সেটাই তাদের জন্য ভালো।”
পুরো বিষয়টি ৯ মে অনুষ্ঠেয় ফ্যারার উপনির্বাচনকে সামনে রেখে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যদিও এ আসনে ওয়ান নেশন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা অভিবাসনের চেয়ে পানিনীতিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং মারি-ডার্লিং বেসিন পরিকল্পনা নিয়ে রয়্যাল কমিশনের দাবি তুলেছেন।
অন্যদিকে, অভিবাসন ইস্যুর বাইরে সরকার মনোযোগ দিয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এশিয়া সফরে গিয়ে ব্রুনাই ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চুক্তি করেছেন। তবে একই সময়ে দেশের একটি বড় তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।
জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন জানিয়েছেন, এই অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব কিছু সময়ের জন্য দেশীয় জ্বালানি উৎপাদনে পড়তে পারে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল সতর্ক করেছে, ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট দেখা দিতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে কোষাধ্যক্ষ জিম চালমার্সও বাজেট পরিকল্পনায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, আগামী বাজেট আগের পরিকল্পনার মতো হবে না, তবে তা উচ্চাভিলাষীই থাকবে।
এরই মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস জানিয়েছেন, আগামী দশকে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো হবে এবং নতুন কৌশলে ড্রোন ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়াকে আরও আত্মনির্ভর হতে হবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা জরুরি। তার মতে, বৈশ্বিক নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা দুর্বল হলেও এটি ভেঙে পড়লে বিশ্ব আরও বড় সংকটে পড়বে।
সব মিলিয়ে, অভিবাসন নীতি, জ্বালানি সংকট ও প্রতিরক্ষা কৌশল-এই তিনটি ইস্যুকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে, যা আসন্ন নির্বাচনেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
সুত্রঃ এবিসি নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au