নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৬, নিখোঁজ ৩৮৪ পর্যটক
মেলবোর্ন, ২৬ আগষ্ট- নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ১০৫ ভারতীয়সহ মোট ৩৮৪ পর্যটক ও ভ্রমণকারী…
মেলবোর্ন, ১৭ এপ্রিল- শাহবাগে সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিচার ও জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের ৩৭০ জন বিশিষ্ট নাগরিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী, ট্রান্সঅধিকারকর্মী, শিল্পী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা যৌথ বিবৃতিতে এই দাবি জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় ‘আজাদী আন্দোলনের’ ব্যানারে শাহবাগে আড্ডারত একদল মানুষের ওপর হামলা চালানো হয়। সেখানে উপস্থিত কয়েকজনকে ‘সমকামী’ ও ‘ট্রান্সজেন্ডার’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে আক্রমণ করা হয় এবং নারীদের ওপর যৌন হয়রানির ঘটনাও ঘটে।
এর আগে ৩ এপ্রিল একই এলাকায় হিজড়া ও ট্রান্সনারী সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর হয়রানির অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাদের ভিডিও ধারণ করে অশালীন প্রশ্ন করা হয় এবং পরে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়। দুই দিন ধরে আইনগত সহায়তা ছাড়াই তাদের আটকে রাখা হয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জরিমানা ও মুচলেকার মাধ্যমে মুক্তি দেওয়া হয়।
নাগরিক সমাজের বিবৃতিতে বলা হয়, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং সমাজে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও সহিংসতার ধারাবাহিকতা। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনাস্থলের কাছে থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধেও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
নাগরিকরা বলেন, লিঙ্গ, পরিচয় বা মতভেদ নির্বিশেষে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রান্তিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক আচরণ ও মব সহিংসতা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে শাহবাগ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের জবাবদিহি, হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রকাশ্যে জবাবদিহি, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রীয় অবস্থান স্পষ্ট করা এবং হয়রানিমূলক ‘মোবাইল সাংবাদিকতা’ নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবির, নারীপক্ষের শিরীন পারভিন হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম, কামরুল হাসান মামুন, সামিনা লুৎফা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, আইনজীবী জোবায়ের খান, শিল্পী রাজীব দত্ত, প্রকাশক মাহরুখ মোহিউদ্দিনসহ বিভিন্ন পেশার আরও বহু ব্যক্তি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au