সিডনি ও মেলবোর্নে ফেরার পরই তিন ‘আইএসআইএস ব্রাইড’ গ্রেপ্তার। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৭ মে- অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্ন বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই তিন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদের বিরুদ্ধে দাসত্ব, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হতে পারে বলে জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া নারীদের মধ্যে রয়েছেন মেলবোর্নের এক ৫৩ বছর বয়সী দাদি কাওসার আব্বাস এবং তার ৩১ বছর বয়সী মেয়ে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানের পর বৃহস্পতিবার রাতে তারা অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসেন। ফেরার পরপরই মেলবোর্ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের আটক করা হয়।
এএফপির কাউন্টার টেররিজম বিভাগের সহকারী কমিশনার স্টিফেন নাট জানিয়েছেন, ৫৩ বছর বয়সী ওই নারীর বিরুদ্ধে চারটি গুরুতর অভিযোগ আনার প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধ, দাসত্ব, দাস রাখা, দাস ব্যবহার এবং দাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ। প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
অন্যদিকে ৩১ বছর বয়সী নারীর বিরুদ্ধেও দুটি অভিযোগ আনার কথা বলা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং দাসত্ব ও দাস ব্যবহারের অভিযোগ। এসব অপরাধেও সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত দুই নারীকে অভিযোগ গঠনের পর ভিক্টোরিয়া রাজ্যের আদালতে হাজির করা হবে।
এএফপি অবশ্য গ্রেপ্তার হওয়া নারীদের নাম প্রকাশ করেনি। তবে তারা নিশ্চিত করেছে যে সিডনি বিমানবন্দরে যে নারী গ্রেপ্তার হয়েছেন, তিনি জানাই সাফার নামে পরিচিত। তাকে নিয়ে আলাদা একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলার তদন্ত চলছে।
সিডনি বিমানবন্দরে নেমেই নিউ সাউথ ওয়েলস যৌথ কাউন্টার টেররিজম টিম ৩২ বছর বয়সী ওই নারীকে আটক করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হতে পারে যে তিনি একটি ঘোষিত সন্ত্রাসী এলাকায় প্রবেশ বা অবস্থান করেছেন এবং একটি সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য ছিলেন।
এদিকে গ্রেপ্তারের সময় মেলবোর্ন বিমানবন্দরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, একই সঙ্গে যাওয়া আরেক নারী, যিনি ওই পরিবারের সদস্য, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। ফলে তাকে আটকও করা হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান এবং সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এই মামলাকে দেশটির নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্রঃ news.com.au