জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের মানববন্ধন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ মে- জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্যপদ পুনর্বহাল, প্রায় তিন শতাধিক সাংবাদিকের নামে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্ট।
শুক্রবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় প্রেস ক্লাব-এর সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে নোটিশ টানিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের প্রায় ২০০ স্থায়ী সদস্যের সদস্যপদ স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ স্থায়ী সদস্যের সদস্যপদ স্থগিত করার কোনো সাংগঠনিক ও গঠনতান্ত্রিক বিধান নেই বলে দাবি করেন তারা। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার হুমকি, প্রেসক্লাবে প্রবেশে বাধা এবং লাঞ্ছিত করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন বক্তারা।

সাংবাদিকদের নামে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং হয়রানি বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন অংশগ্রহণকারীরা। ছবিঃ সংগৃহীত
কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের আহ্বায়ক আকতার হোসেন, সদস্য সচিব শেখ জালাল, জাকির হোসেন ইমন, আশরাফ আলী, সাজেদা হক, সোহেলী পারভীন এবং তুষারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা বলেন, অনির্বাচিত কমিটি একটি গণতান্ত্রিক সরকারের আমলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারে না। তারা সরকারের নাম ব্যবহার করে সাংবাদিকদের দমন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন। এছাড়া ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের আমলে গণমাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টি, মিডিয়া হাউজে অগ্নিসংযোগ, সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান বক্তারা।
মানববন্ধনে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত, স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখা এবং জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নামে দায়ের করা সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং হয়রানি বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন অংশগ্রহণকারীরা।
বক্তারা আরো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দিয়ে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে তালা টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে। সাংবাদিক ইউনিয়নের অফিস প্রায় দেড় বছর যাবত বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তিন হাজারের বেশি সাংবাদিকের সংগঠনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে রাখা হয়েছে। গণতান্ত্রিক সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সমর্থন করতে পারে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলে এর মধ্য দিয়ে গণমাধ্যমকে দমনের প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। বক্তারা অবিলম্বে সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয় খুলে দেয়ার ও দাবি জানান।