স্ত্রীর মৃত্যুর চল্লিশার আগেই ২য় বিয়ে করলেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ মে- হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও দেশের আলোচিত ইসলামি ব্যক্তিত্ব মাওলানা শায়েখ সাজিদুর রহমান দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ভাদুঘর গ্রামে পারিবারিক আয়োজনে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর মাত্র পাঁচ সপ্তাহ, অর্থাৎ ৩৮ দিনের মাথায় নতুন করে বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়েছে।
পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, ৬২ বছর বয়সী মাওলানা সাজিদুর রহমানের নববধূ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাদুঘর গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় আলেম মাওলানা মাকবুল হাসানের মেয়ে আমাতুর রহমান। কয়েক মাস আগে আমাতুর রহমানের স্বামী মারা যান। তার আগের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ৩০ মার্চ রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মাওলানা সাজিদুর রহমানের প্রথম স্ত্রী। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাদের চার ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। স্ত্রীর মৃত্যুর ৩৮ দিনের মাথায় তার দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, বিয়ের অনুষ্ঠানটি ছিল একেবারেই পারিবারিক ও সীমিত পরিসরের। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কয়েকজন বিশিষ্ট আলেম, মাদ্রাসাশিক্ষক এবং দুই পরিবারের ঘনিষ্ঠ স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন।
বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন ভাদুঘর জামিয়া সিরাজিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা তানভিরুল হক সিরাজী, বিজেশ্বর মাদ্রাসার মুহাদ্দিস খুরশীদুল ইসলাম, কাউতলী ইব্রাহিমিয়া মহিলা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাহফুজুল হাসানসহ স্থানীয় কয়েকজন আলেম।
মাওলানা সাজিদুর রহমান দেশের কওমি অঙ্গনের পরিচিত মুখ। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া দারুল আরকাম আল ইসলামিয়ার প্রিন্সিপাল এবং জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।
তার দ্বিতীয় বিয়ের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে ব্যক্তিগত ও ধর্মীয়ভাবে বৈধ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর অল্প সময়ের মধ্যেই বিয়ে করাকে ঘিরে প্রশ্ন তুলছেন। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত মাওলানা সাজিদুর রহমান বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।