বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
মেলবোর্ন, ২৭ মে- ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। একদিনের ব্যবধানে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে, যা নিয়ে নতুন…
মেলবোর্ন, ২৬ মে- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ক্যাম্পাসে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল তাদের তিন নেতাকে পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে হল প্রশাসন কমিটি গঠন করেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম অভয় কুমার সিংহ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক চন্দন দাস, ঝলক দাস ও রিপন চন্দ্র সরকার। এছাড়া সাগর নামের আরও একজনকে অভিযুক্ত করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।
ঘটনার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভয় কুমার সিংহ জানান, গত রোববার সন্ধ্যায় তিনি জগন্নাথ হলের রবীন্দ্র ভবনের নিচে একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন। শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি চেয়ারেই পা তুলে বসেছিলেন। এ সময় চন্দন দাস ও ঝলক দাস এসে তাঁকে পা নামাতে বলেন এবং এ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়।
অভয়ের দাবি, পরে তিনি নিজের কক্ষে ফিরে গেলে অভিযুক্ত চারজন সেখানে যান। সেখানে তাঁকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং থাপ্পড় মারা হয়। পাশাপাশি তাঁকে হল ও এলাকা ছাড়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেক শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থী প্রতিবন্ধী এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণের নিন্দা জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদল নেতা চন্দন দাস। তিনি বলেন, চায়ের দোকানে কিছু কথা-কাটাকাটি হয়েছিল। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য তাঁরা অভয়ের কক্ষে গিয়েছিলেন। মারধরের অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই জগন্নাথ হল প্রশাসন তদন্তে নামে। হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক দেবাশীষ পাল জানান, বিষয়টি রাতেই তাঁকে জানানো হয় এবং ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর মো. ইসরাফিল প্রাং জানান, তদন্ত কমিটিতে প্রক্টর অফিসের একজন প্রতিনিধিকেও রাখা হয়েছে, যাতে নিরপেক্ষভাবে পুরো ঘটনা অনুসন্ধান করা যায়।
এদিকে ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। সোমবার দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে চন্দন দাস, ঝলক দাস ও রিপন চন্দ্র সরকারকে তাঁদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এক বিবৃতিতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানায়। সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন খান ও সেক্রেটারি কাজী আশিক বলেন, এ ধরনের ঘটনা ক্যাম্পাসে ভয়ভীতি ও আধিপত্যের রাজনীতি ফিরিয়ে আনার ইঙ্গিত বহন করে।
তাঁরা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে আবারও ‘গেস্টরুম’ সংস্কৃতি ও দমনমূলক পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au