পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়ায় অর্থ পাঠানোর জটিলতা কাটাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতীয় রুপিতে লেনদেনের ব্যবস্থা চালুর কথা বিবেচনা করছে মস্কো। ছবি: এআই জেনারেটেড
মেলবোর্ন, ২ আগস্ট: পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট অর্থ পরিশোধের জটিলতা কাটাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতীয় রুপিতে বাণিজ্য ও ঋণ লেনদেনের একটি নতুন ব্যবস্থা চালুর কথা বিবেচনা করছে রাশিয়া। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ রাশিয়ার অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পের ঋণ পরিশোধে বাংলাদেশ বিকল্প একটি পথ পেতে পারে।
তবে রুশ ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশ সরাসরি ঋণের কিস্তি রাশিয়ায় পাঠাতে পারছে না বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ রাশিয়ার নামে খোলা সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে ঋণের কিস্তি জমা দিলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই অর্থ মস্কোয় স্থানান্তর করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Organiser-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা পাশ কাটিয়ে বাংলাদেশকে রাশিয়ার পাওনা পরিশোধের সুযোগ দিতে ভারতীয় রুপিভিত্তিক একটি বিশেষ পেমেন্ট অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক লেনদেনে ভারতীয় রুপির ব্যবহার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবটি আগামী সেপ্টেম্বর অথবা অক্টোবর মাসে অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ–রাশিয়া আন্তঃসরকার কমিশনের বাণিজ্য, অর্থনৈতিক, বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি সহযোগিতাবিষয়ক বৈঠকে উত্থাপন ও আলোচনা করা হতে পারে।
রূপপুর প্রকল্পের ঋণ পরিশোধে জটিলতা
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর অন্যতম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে বড় অঙ্কের অর্থায়ন করেছে রাশিয়া। পাবনা জেলার পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি রয়েছে। প্রকল্পটির মোট উৎপাদনক্ষমতা ২,৪০০ মেগাওয়াট।
তবে রুশ ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশ সরাসরি ঋণের কিস্তি রাশিয়ায় পাঠাতে পারছে না বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ রাশিয়ার নামে খোলা সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে ঋণের কিস্তি জমা দিলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই অর্থ মস্কোয় স্থানান্তর করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
কীভাবে কাজ করতে পারে রুপিভিত্তিক ব্যবস্থা
রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে আগে থেকেই রুপি–রুবলভিত্তিক লেনদেনের ব্যবস্থা রয়েছে। দুই দেশের বিশেষ ভস্ত্রো ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাণিজ্যিক লেনদেন সম্পন্ন হয়। ফলে বাংলাদেশের জন্য সম্পূর্ণ নতুন একটি দ্বিপক্ষীয় পেমেন্ট কাঠামো তৈরির পরিবর্তে বিদ্যমান ভারত–রাশিয়া ব্যবস্থাকে কাজে লাগানোর কথা ভাবছে মস্কো।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় ভারতীয় ব্যাংকগুলোতে থাকা রাশিয়ার রুপি ব্যবহার করে বাংলাদেশ ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে পারে। পাশাপাশি রাশিয়া বাংলাদেশকে রুপিতে নতুন ঋণ দিতে পারে এবং বাংলাদেশ সেই অর্থ ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যেও ব্যবহার করতে পারে। এতে বাংলাদেশ, ভারত ও রাশিয়াকে কেন্দ্র করে একটি ত্রিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদনটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে একদিকে রাশিয়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে সৃষ্ট পেমেন্ট সংকট মোকাবিলা করতে পারবে, অন্যদিকে বাংলাদেশ রূপপুর প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের একটি কার্যকর বিকল্প পথ পাবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ভারতীয় রুপির গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে এবং মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমতে পারে।