হাওড়ার এই কারখানাতেই চলত রেডিমেড কাপড়ের ট্যাগ লাগানোর কাজ। হামিম মণ্ডল (ইনসেটে)। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩ আগস্ট: জঙ্গি-যোগের অভিযোগে গ্রেফতার পূর্ব বর্ধমানের মন্তেশ্বরের বাসিন্দা হামিম মণ্ডলের সঙ্গে যুক্ত একটি কারখানার খোঁজ মিলেছে হাওড়ার পিলখানায়। রবিবার সকালে তদন্তকারীরা গোলাবাড়ি থানার অন্তর্গত ৭ নম্বর আলম মিস্ত্রি লেনে ওই কারখানায় পৌঁছন। তদন্তে জানা গিয়েছে, সেখানে একটি আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন হামিমের বাবা মনিরুদ্দিন মণ্ডল। একই আবাসনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে পরিবার-সহ থাকতেন হামিমরাও।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত প্রায় আট মাস ধরে ওই কারখানায় কাপড়ে ট্যাগ লাগানোর কাজ চলত। স্থানীয় সূত্রের দাবি, হামিম তাঁর বাবাকে কারখানার কাজে সহযোগিতা করতেন। সেখানে এক মহিলা ও তিনজন পুরুষ কর্মী কাজ করতেন বলেও জানা গিয়েছে।
এদিকে, হামিমের বিরুদ্ধে পাকিস্তানভিত্তিক অপরাধচক্রের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীদের দাবি, পাকিস্তানের কুখ্যাত গ্যাংস্টার শাহজ়াদ ভট্টি এবং তার সহযোগী আজমল গুজ্জরের সঙ্গে হামিমের যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। ভারতীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, এই চক্র পাকিস্তান থেকে ভারতে মাদক ও অস্ত্র পাচার এবং সেই অর্থ ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের নাশকতার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত। গোটা নেটওয়ার্কে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের মদতের অভিযোগও তদন্তকারীরা তুলেছেন।
এই পরিস্থিতিতে হাওড়ার পিলখানার কারখানাটি কোনও নাশকতার পরিকল্পনা বা যোগাযোগের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছননি তদন্তকারীরা।
গত শুক্রবার পূর্ব বর্ধমান থেকে হামিম মণ্ডলকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কলকাতায় আনা হয়। আদালত তাঁকে ১৪ দিনের জন্য এসটিএফ হেফাজতে পাঠিয়েছে।
গোয়েন্দাদের দাবি, সমাজমাধ্যমে করা মন্তব্যের সূত্র ধরেই শাহজ়াদ ভট্টির সঙ্গে হামিমের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে সেই যোগাযোগ ঘনিষ্ঠতায় পরিণত হয় এবং নিয়মিত কথাবার্তাও চলত। তদন্তকারীদের অভিযোগ, হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে হামিম কিছু অর্থও পেয়েছিলেন। পাশাপাশি, রাজ্যে কয়েকটি নির্দিষ্ট দায়িত্বও তাঁর উপর অর্পণ করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, হামিমকে রাজ্যের কয়েকজন রাজনৈতিক ও ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির গতিবিধির উপর নজর রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সেই তালিকায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নামও রয়েছে বলে অভিযোগ। উদ্ধার হওয়া কিছু নথি ও ডিজিটাল চ্যাটের ভিত্তিতে গোয়েন্দাদের ধারণা, মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে সেই প্রচেষ্টা কতদূর এগিয়েছিল বা কতটা সফল হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
তদন্তকারীদের আশঙ্কা, রাজ্যে কোনও বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা থাকতে পারে। তাদের দাবি, শাহজ়াদ ভট্টির অপরাধচক্র অতীতে স্থানীয় যুবকদের ব্যবহার করে ছোট বিস্ফোরণ এবং চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অভিযোগে অভিযুক্ত। সেই ধরনের কোনও পরিকল্পনা পশ্চিমবঙ্গেও ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে তদন্তকারী সংস্থা স্পষ্ট করেছে, হামিম ঠিক কত টাকা পেয়েছিলেন, তাঁর কাছে কোনও অস্ত্র বা মাদক পৌঁছেছিল কি না এবং পরিকল্পনা কতদূর এগিয়েছিল, তা এখনও তদন্তাধীন। গোয়েন্দাদের দাবি, শাহজ়াদ ভট্টি চক্রের সঙ্গে হামিমের যোগাযোগ যথেষ্ট গভীর পর্যায়ে পৌঁছেছিল বলেই প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে।
সূত্র: আনন্দবাজার ডট কম