লাকেম্বা মসজিদের মাইকে আজান প্রচারের প্রস্তাব ফের বাধার মুখে
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বা মসজিদের মিনার থেকে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের প্রস্তাব আবারও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। শব্দদূষণ নিয়ে উদ্বেগ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের…
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট- ২০২৪ সালে জাতীয় সরকার গঠন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে সম্ভাব্য সরকার কাঠামো এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ২০২৩ সালের মার্চেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি প্রতিবেদন দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম।
সম্প্রতি সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব দাবি করেন। মনিরুলের ভাষ্য, সাত থেকে আট পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে ২০২৪ সালে একটি জাতীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনা, সম্ভাব্য সরকার কাঠামো এবং কয়েকজন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছিল।
মনিরুল বলেন, ওই প্রতিবেদনে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরাসরি সরকারপ্রধান করার পরিবর্তে তাঁর ঘনিষ্ঠ বা প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে দু-তিনজনকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ ছিল। পরে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর তিনি পুরোনো প্রতিবেদনটি আবার পর্যালোচনা করেন বলে জানান।
তার দাবি, প্রতিবেদনে যেসব ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছিল, তাদের অনেকেই পরে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হন। আবার কয়েকজন বিভিন্ন কমিশনের চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসন কিংবা সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পান।
মনিরুল বলেন, ‘আমি প্রথম যে রিপোর্টের কথা বললাম মার্চ মাসে, সেটি আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে দিয়েছিলাম। সরাসরি হস্তান্তর করার পর উনি ওটা পড়েছিলেন।’
তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা নিজে প্রতিবেদনটি পড়েছিলেন এবং ড. ইউনূসকে নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথাও বলেছিলেন। মনিরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, সে সময় শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ড. ইউনূস নিজেই ক্ষমতায় থাকতে চাইবেন।
তবে মনিরুল জানান, ওই সময় ড. ইউনূসের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। তাঁর সঙ্গে কখনো দেখা বা কথা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। ফলে শেখ হাসিনার মন্তব্য তখন তাঁর কাছে কিছুটা বিস্ময়কর মনে হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর ২০২৩ সালের সেই প্রতিবেদনটি আবার খুঁজে বের করে পর্যালোচনা করেন বলে জানান সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা। তাঁর দাবি, প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ মিল পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আগাম প্রতিবেদনের দাবি
সাক্ষাৎকারে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত ভিসা নীতির বিষয়েও আগাম তথ্য পাওয়ার দাবি করেন মনিরুল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, ওই বছরের মে মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার জন্য দায়ী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার এক থেকে দুই দিন আগে তিনি এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন।
মনিরুলের দাবি, ওই প্রতিবেদনেও সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশি শক্তিগুলোর ভূমিকার বিষয় উঠে এসেছিল।
তিনি বলেন, পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পুরোনো ওই প্রতিবেদনটি আবার উদ্ধার করে দেখেন। তাঁর দাবি, সেখানেও উল্লেখ করা অনেক তথ্য পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে প্রায় ৯০ শতাংশ মিলে যায়।
তবে এসব দাবির পক্ষে তিনি সাক্ষাৎকারে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোর পূর্ণাঙ্গ কপি বা স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো নথি প্রকাশ করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়।
২৮ অক্টোবরের সমাবেশ ঘিরেও পরিকল্পনার দাবি
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর ঢাকায় বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর সমাবেশকে ঘিরে রাজনৈতিক অস্থিরতার সম্ভাবনা নিয়েও আগে থেকে পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি করেছেন মনিরুল।
তাঁর ভাষ্য, ওই সমাবেশকে কেন্দ্র করে একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা ছিল। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসায় শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি।
মনিরুল আরও বলেন, ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর সরকার এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে একধরনের আত্মতুষ্টি তৈরি হয়েছিল। তাঁর মতে, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে ধারণা তৈরি হওয়ায় পরবর্তী ঝুঁকিগুলো যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।
‘ডিপ স্টেট’ ও আন্দোলন নিয়ে মনিরুলের বক্তব্য
সাক্ষাৎকারে ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গও তোলেন মনিরুল ইসলাম। এসব আন্দোলনের পেছনে দেশি-বিদেশি কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠী বা তথাকথিত ‘ডিপ স্টেট’-এর ভূমিকা ছিল কি না, তা নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি।
মনিরুলের দাবি, প্রচলিত রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন সম্ভব নয়, এমন একটি ধারণা থেকে ছাত্র ও তরুণদের আন্দোলনকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময়ে ছাত্র আন্দোলন ও সামাজিক অসন্তোষকে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিবর্তনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়েছে।
৫ আগস্টের ঘটনাতেও সেনাবাহিনীর একটি অংশের ভূমিকার দাবি
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঘটনাতেও সেনাবাহিনীর ভেতরের একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠীর ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেন মনিরুল ইসলাম।
তাঁর ভাষ্য, সেনাবাহিনীর একটি অংশ সরকারের পরিকল্পনার সঙ্গে একমত ছিল না এবং তারা ভিন্নভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করেছিল। এর ফলে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে তিনি দাবি করেন।
তবে সেনাবাহিনীর ভেতরে কথিত ওই গোষ্ঠীর পরিচয়, তাদের নির্দিষ্ট ভূমিকা কিংবা এ বিষয়ে তাঁর দাবির পক্ষে কোনো নথি বা প্রমাণ সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেননি মনিরুল।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au