লাকেম্বা মসজিদের মাইকে আজান প্রচারের প্রস্তাব ফের বাধার মুখে
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বা মসজিদের মিনার থেকে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের প্রস্তাব আবারও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। শব্দদূষণ নিয়ে উদ্বেগ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের…
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৯ জনের মধ্যে চারজন একই পরিবারের। নিহতদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে কুষ্টিয়ার একই পরিবারের চারজন রয়েছেন।
তাঁরা হলেন কুষ্টিয়ার দেবাশিস দত্ত (৩৯), তাঁর স্ত্রী আফসানা শিম্মিন (২৭), আড়াই বছর বয়সী ছেলে শর্ণশিষ দত্ত এবং আফসানার বাবা আকরাম আলী (৬৪)।
দেবাশিস দত্ত পেশায় সাংবাদিক। তিনি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁদের মরদেহ কলকাতা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
দেবাশিস দত্তের বাড়ি কুষ্টিয়া মডেল থানার মোহিনী মিল এলাকার আরুয়াপাড়ায়। তাঁর বাবার নাম দিলীপ কুমার দত্ত। আকরাম আলীর বাড়ি কুষ্টিয়া হেড পোস্ট অফিস এলাকার বদরুদ্দোজা রোডে।
নিহত আরেক বাংলাদেশি আহামেদ বাবুর বাড়ি ঢাকার সাভারের আমিনবাজারের বেগুনবাড়িতে। তাঁর বাবার নাম আদম আলী।
এ ছাড়া ১৯ বছর বয়সী সন্দীপ পাসওয়ানের পরিচয়ও নিশ্চিত হয়েছে। তিনি ভারতের ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা। নিহত অপর তিনজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে আট বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত ও আহতদের কয়েকজন চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে কলকাতার নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে আগুন লাগে। পুলিশ জানিয়েছে, রাত ২টা ৭ মিনিটে হোটেলের তৃতীয় তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা অন্তত চারটি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন ও ধোঁয়ার কারণে হোটেলের ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘুমন্ত অতিথিদের অনেকেই চিৎকার-চেঁচামেচিতে জেগে ওঠেন। দ্রুত ঘন কালো ধোঁয়ায় কক্ষগুলো ভরে যাওয়ায় অনেকে বের হতে পারেননি। জীবন বাঁচাতে বের হওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে কয়েকজন জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। তাদের সঙ্গে একটি বিপর্যয় মোকাবিলা দলও উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
উদ্ধারকারীরা হোটেল থেকে প্রায় ৬০ জনকে জীবিত বের করে আনেন। তবে দমকলকর্মীরা অচেতন অবস্থায় নয়জনকে উদ্ধার করে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসকেরা তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।
অগ্নিকাণ্ডে আহত কয়েকজনকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত ছয়জনের চিকিৎসা চলছে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে।
প্রাথমিক তদন্তের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, হোটেলটিতে ন্যূনতম অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল না। প্রাথমিকভাবে একটি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।
ঘটনার পর কলকাতা পুলিশ মামলা করেছে। হোটেলের মালিক ও কর্মীরা পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁদের খুঁজে বের করতে অভিযান চলছে।
এদিকে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে রেখে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে।
সূত্র-এএনআই
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au