লাকেম্বা মসজিদের মাইকে আজান প্রচারের প্রস্তাব ফের বাধার মুখে
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বা মসজিদের মিনার থেকে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের প্রস্তাব আবারও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। শব্দদূষণ নিয়ে উদ্বেগ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের…
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: চিকিৎসার জন্য ভারতের কলকাতায় গিয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন আট বাংলাদেশি নাগরিক। কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি হোটেলে বুধবার ভোরে আগুন লাগার পর মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি বলে জানা গেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোর ৩টার দিকে নিউ মার্কেটের কাছে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের ওই হোটেলে আগুনের সূত্রপাত হয়। সে সময় হোটেলের অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ও ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় বেশ কয়েকজন অতিথি ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান দমকলকর্মীরা। চারটি দমকলের গাড়ি উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়। পরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দলের সদস্যরাও সেখানে যোগ দেন। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও হোটেলের ভেতরে আটকে থাকা কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করা যায়নি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হোটেলের একটি এয়ার কন্ডিশনার বা এসি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগুন লাগার কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হোটেলের ভেতরে ঘন ধোঁয়া থাকায় দমকলকর্মীদের ওপরের তলাগুলোতে পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। এখন পর্যন্ত নয়জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধার অভিযান ও তল্লাশি পুরোপুরি শেষ হওয়ার পর হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তিন মন্ত্রী। তারা হলেন পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় এবং পূর্ণিমা চক্রবর্তী। তারা উদ্ধারকাজ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্য নেন।
নিহত বাংলাদেশিরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় গিয়ে তারা ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন। অগ্নিকাণ্ডের পর তাদের পরিচয় ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর বর্তমানে ভবনটি ঠান্ডা করার কাজ চলছে। একই সঙ্গে হোটেলের প্রতিটি তলা ও কক্ষ তল্লাশি করে আর কেউ আটকা পড়ে আছেন কি না, তা দেখা হচ্ছে।
কলকাতার এই অগ্নিকাণ্ডের মাত্র দুই দিন আগে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার তারাপীঠে আরেকটি হোটেলে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটে। গত ১৭ আগস্ট ভোরে তারাপীঠের হোটেল বিদেষিণীতে আগুন লেগে অন্তত আটজন নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন।
পাঁচতলা ওই হোটেলের নিচতলায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আগুন লাগে। তখন অধিকাংশ অতিথি ঘুমিয়ে ছিলেন। হোটেলটি তারাপীঠ মন্দিরের কাছে একটি পবিত্র পুকুরের পাশে অবস্থিত।
ওই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে মেঘালয়ের একই পরিবারের পাঁচজন সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে দুটি শিশুও ছিল। পরিবারটি হোটেলের ওপরের একটি তলায় অবস্থান করছিল। দুই দিনের ব্যবধানে পশ্চিমবঙ্গের দুটি হোটেলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au