লাকেম্বা মসজিদের মাইকে আজান প্রচারের প্রস্তাব ফের বাধার মুখে
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বা মসজিদের মিনার থেকে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের প্রস্তাব আবারও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। শব্দদূষণ নিয়ে উদ্বেগ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের…
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে মাদরাসাছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ও মাদরাসাছাত্রসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের পশ্চিম মেড্ডা এলাকায় পুলিশ লাইন্সের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, মাদরাসাছাত্র ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরীর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সফর উপলক্ষে জেলা পুলিশের আয়োজনে রাতে পুলিশ লাইন্সে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাসাসের সদস্যরা গান পরিবেশন করছিলেন।
এ সময় উচ্চস্বরে গান বাজানোয় পাশের দারুল আরকাম মাদরাসার শিক্ষার্থীরা পুলিশ লাইন্সে গিয়ে শব্দের মাত্রা কমানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শতাধিক মাদরাসাছাত্র পুলিশ লাইন্সের ভেতরে প্রবেশ করে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে মাদরাসাছাত্ররাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। হামলা ও পাল্টা হামলায় পুলিশ সদস্য এবং মাদরাসাছাত্রসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরে আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
দারুল আরকাম মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বুধবার তাদের পরীক্ষা ছিল। এ কারণে রাতের উচ্চস্বরে গান বাজানোর কারণে পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছিল। প্রথমে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সে গিয়ে গান ও শব্দের মাত্রা কমানোর অনুরোধ করেন। তাদের দাবি, কিছু সময়ের জন্য শব্দ কমানো হলেও পরে আবার তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাদানুবাদ শুরু হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তাদের ওপর লাঠিচার্জের কারণে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
অন্যদিকে, পুলিশ লাইন্সে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে জানা গেছে। তবে হামলার সময় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ লাইন্স ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au