স্বামীর জানাজা-দাফনে অংশ নিতে ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন দীপু মনি
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. দীপু মনিকে স্বামী ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের জানাজা ও দাফনে অংশ নেওয়ার জন্য ১২ ঘণ্টার প্যারোলে…
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বা মসজিদের মিনার থেকে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের প্রস্তাব আবারও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। শব্দদূষণ নিয়ে উদ্বেগ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের বিপুল আপত্তির পর ক্যান্টারবেরি-ব্যাংকস্টাউন কাউন্সিল জানিয়েছে, বর্তমান অবস্থায় প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য নয়।
লাকেম্বা মসজিদ থেকে প্রতি শুক্রবার একবার আজান প্রচারের জন্য মিনারে চারটি লাউডস্পিকার স্থাপনের অনুমতি চেয়েছে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বৃহৎ মসজিদ হিসেবে পরিচিত এই মসজিদটি সিডনির একটি বড় মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় অবস্থিত।
সর্বশেষ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬০০টির বেশি আপত্তি জমা পড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় একটি উন্নয়ন আবেদনকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় স্বাধীনতা, আবাসিক এলাকার পরিবেশ এবং উপাসনালয় থেকে বাইরে ধর্মীয় ঘোষণা প্রচারের বিষয়টি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
কাউন্সিলের আপত্তি কোথায়
মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাউন্সিলের কর্মকর্তারা মনে করছেন, প্রস্তাবিত লাউডস্পিকারের শব্দ আশপাশের বাসিন্দাদের জন্য গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি হতে পারে। আবেদনের শব্দসংক্রান্ত তথ্য ও পূর্বাভাস নিয়েও বেশ কিছু প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
এর পরিপ্রেক্ষি

লাকেম্বা মসজিদ। ছবি: সংগৃহীত
তে বর্তমান প্রস্তাবটি কার্যত প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এখন লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের সামনে তিনটি পথ রয়েছে: প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা, সংশোধন করা অথবা কাউন্সিলের আপত্তি দূর করতে নতুন স্বাধীন শব্দ-পরীক্ষা ও কারিগরি প্রতিবেদন জমা দেওয়া।
তবে নিউ সাউথ ওয়েলস সরকারের পরিকল্পনা পোর্টালে ডেভেলপমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন DA-518/2026 এখনও ‘Under Consideration’ হিসেবে রয়েছে। অর্থাৎ রাজ্য সরকারের আনুষ্ঠানিক পোর্টালে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নথিভুক্ত হয়নি।
আগের আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল
লাকেম্বা মসজিদ কর্তৃপক্ষের একই ধরনের লাউডস্পিকার স্থাপনের আগের আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। ২০২৫ সালের আগস্টে চারটি লাউডস্পিকার স্থাপনের সেই আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হয়।
এরপর চলতি বছর নতুন করে আবেদন করে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন। এবার অতিরিক্ত শব্দ-সংক্রান্ত তথ্য ও সংশোধিত ব্যবস্থাপনা শর্তের মাধ্যমে আগের আপত্তিগুলো দূর করার চেষ্টা করা হয়।
নতুন আবেদনটি মে মাসে জমা দেওয়া হয় এবং ৯ জুন পর্যন্ত তা জনসাধারণের মতামতের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতি শুক্রবার দুপুরের দিকে সর্বোচ্চ ১৫ মিনিট আজান প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে।
অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, প্রস্তাবিত ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং লাকেম্বার স্থানীয় পরিবেশ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাদের হিসাবে, আশপাশের প্রায় ২০টি বাড়ি উল্লেখযোগ্যভাবে শব্দের প্রভাবে পড়তে পারে।
‘চার্চের ঘণ্টা হলে আজান নয় কেন?’
প্রস্তাবটির সমর্থকেরা বলছেন, ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতির আওতায় মুসলিমদেরও প্রকাশ্যে নিজেদের ধর্মীয় ঐতিহ্য পালনের সুযোগ থাকা উচিত। তারা গির্জার ঘণ্টাধ্বনির সঙ্গে আজানের তুলনা করছেন।
লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি গামেল খেইর এর আগে প্রশ্ন তুলেছিলেন, গির্জার ঘণ্টা বাজানো অনুমোদিত হলে আজান প্রচারে আপত্তি কেন।
তবে বিরোধীদের দাবি, বাসিন্দাদের ওপর শব্দের প্রভাবই পরিকল্পনা অনুমোদনের ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য হওয়া উচিত। ধর্মীয় বক্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ বা জনপ্রিয় কি না, সেটি এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক নয়।
১,৬০০টির বেশি আপত্তি
সর্বশেষ আবেদনটির বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬০০টির বেশি আপত্তি জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। আগের আবেদনের তুলনায় এবার বিরোধিতার পরিমাণ অনেক বেশি।
কাউন্সিলের প্রধান উদ্বেগ হলো, লাউডস্পিকারে প্রচারিত আজানের শব্দ নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকবে কি না এবং মসজিদের আশপাশের বাইরের আবাসিক এলাকাতেও এর প্রভাব পড়বে কি না।
শব্দের মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর কাউন্সিল একজন স্বাধীন অ্যাকুস্টিক প্রকৌশলীকে দিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করিয়েছে। ওই পর্যালোচনাই এখন আবেদনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ক্যান্টারবেরি-ব্যাংকস্টাউন কাউন্সিলের কাউন্সিলর বারবারা কুরিও প্রস্তাবটির অন্যতম প্রকাশ্য বিরোধিতাকারী। তিনি লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনকে আবেদনটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
কুরিওর দাবি, তাঁর অবস্থান ইসলামের বিরুদ্ধে নয়। আবাসিক এলাকায় বাইরে থেকে সম্প্রচারিত ধর্মীয় শব্দের প্রভাবের বিরোধিতা করাই তাঁর অবস্থানের কারণ। একই পরিস্থিতিতে কোনো খ্রিষ্টান গির্জার ঘণ্টাধ্বনির ক্ষেত্রেও তিনি আপত্তি জানাবেন বলে এর আগে মন্তব্য করেছেন।
এই প্রস্তাবকে ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। মসজিদ কর্তৃপক্ষের সমর্থকেরা বলছেন, আজান মুসলিমদের ধর্মীয় পরিচয় ও বিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অন্যদিকে বিরোধীদের বক্তব্য, ধর্মীয় স্বাধীনতা থাকলেও উপাসনালয় থেকে লাউডস্পিকারে শব্দ প্রচারের ক্ষেত্রে আবাসিক এলাকার শব্দদূষণ, প্রতিবেশীদের স্বাচ্ছন্দ্য এবং প্রচলিত পরিকল্পনা আইন মেনে চলতে হবে।
লাকেম্বা মসজিদ অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। রমজান ও অন্যান্য বড় ধর্মীয় আয়োজনে এখানে হাজারো মানুষ সমবেত হন।
সম্প্রতি মসজিদটি মুসলিমবিদ্বেষী হুমকিরও শিকার হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে রমজান শুরুর আগে মসজিদে একটি হুমকিমূলক চিঠি পাঠানো হলে অস্ট্রেলীয় পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে এবং ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধর্মীয় বিদ্বেষের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং মসজিদের লাউডস্পিকার ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে আইনগত ও স্থানীয় আপত্তি দুটি আলাদা বিষয় হিসেবে দেখা উচিত।
বর্তমানে লেবানিজ মুসলিম অ্যাসোসিয়েশন চাইলে নতুন শব্দ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ও সংশোধিত প্রস্তাব দিয়ে আবেদনটি এগিয়ে নিতে পারে। তবে চারটি লাউডস্পিকারে প্রতি শুক্রবার আজান প্রচার পরিকল্পনা কাউন্সিলের শব্দ ও পরিকল্পনা-সংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে না পারলে দ্বিতীয়বারের মতো আবেদনটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র-দ্য অস্ট্রেলিয়া টুডে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au