লাকেম্বা মসজিদের মাইকে আজান প্রচারের প্রস্তাব ফের বাধার মুখে
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বা মসজিদের মিনার থেকে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের প্রস্তাব আবারও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। শব্দদূষণ নিয়ে উদ্বেগ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের…
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট- বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে স্মরণীয় অভ্যর্থনা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাতে ভারত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। প্রস্তাবিত এই সফরের সুফল শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে বাংলাদেশ সফররত ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সম্মানে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী। ভারতীয় হাইকমিশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ, সিআইআইয়ের মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জিসহ বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাঁকে একজন ‘চমৎকার জননেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দনও জানান তিনি।
ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই প্রথম তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এরপর ভারতের লোকসভার স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বাংলাদেশ সফর করেছেন। এসব যোগাযোগের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সরাসরি দিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে মোদি তাঁকে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত বৈঠকের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘তিনি আমাকে একটি কথাই বলেছেন, আমাদের দ্রুত বৈঠক করতে হবে। তুমি আমার পক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করো যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন ভারত সফরে আসবেন, তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে স্মরণীয় একটি অভ্যর্থনা জানানো হবে, যা তাঁর প্রাপ্য। এই সফরের সুফল শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সাধারণ মানুষের কাছেই পৌঁছাবে।’
দিল্লি সফর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি
গত ১০ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ওই বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে জানান, ভারত সরকার তাঁকে সপরিবারে দিল্লি সফরে স্বাগত জানাতে আগ্রহী।
এর পরদিনই দিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে ঢাকার বার্তা পৌঁছে দেন দীনেশ ত্রিবেদী।
তবে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চললেও তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো সমন্বয় প্রয়োজন।
এর মধ্যে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ এবং সীমান্ত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে অগ্রগতি চাওয়া হলেও এখনো প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেওয়া হয়নি।
‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতির কথা বললেন ভারতীয় হাইকমিশনার
দুই দেশের সম্পর্কে কিছু ভুল-বোঝাবুঝি ও বাধা তৈরি হলেও সেগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের পথে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন না দীনেশ ত্রিবেদী।
তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। এ কারণে তাঁকে বাংলাদেশে পাঠানোর পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘প্রতিবেশীর প্রতি আমাদের রয়েছে অসীম শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক নির্ভরতা। আমাদের নীতিই হলো প্রতিবেশী প্রথম।’
দুই দেশের মধ্যে ছোটখাটো ভুল-বোঝাবুঝি থাকলেও পরিবারেও এমন ঘটনা ঘটে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব কারণে সম্পর্ক ছিন্ন করা যায় না। বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন ইতিহাস, সংস্কৃতি ও মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের জন্য ‘শর্তহীন পারস্পরিক বিশ্বাস’ প্রয়োজন উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, প্রকৃত বন্ধু তারাই, যারা একে অপরের সমস্যা বুঝতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধান করা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়েরও সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর মতে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার করা সম্ভব।
বাণিজ্য বাড়াতে ভিসা সহজ করার আহ্বান
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, ভারত বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়লেও বাণিজ্য কাঠামো এখনো ভারসাম্যহীন।
তিনি বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্যের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তাই বিদ্যমান সমস্যাগুলো দূর করে বাণিজ্য, ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ আরও বাড়াতে হবে।
বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য ভারতের ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত ও সহজ করার আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ। তিনি বলেন, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা আরও নিয়মিত ভারতে যেতে পারবেন এবং দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে।
তিনি চিকিৎসা পর্যটনের পাশাপাশি দুই দেশের বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও নিয়মিত ও স্বতঃস্ফূর্ত যোগাযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন।
ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদারের প্রত্যাশা
সিআইআইয়ের মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি বাংলাদেশ সফরে তাঁদের প্রতিনিধিদল যে উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছে, তার প্রশংসা করেন। বাংলাদেশের শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের কাছ থেকেও আন্তরিক সহযোগিতা পেয়েছেন বলে জানান তিনি।
দুই দেশের মধ্যে আরও বেশি ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরির মাধ্যমে এই সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্প ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিসিআইয়ের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, মেট্রো চেম্বারের সভাপতি কামরান টি রহমান, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী, ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমান, অ্যামচেমের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, এফআইসিসিআইয়ের সভাপতি রূপালী চৌধুরী এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুব উর রহমান উল্লেখযোগ্য।
সব মিলিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনারের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরকে ঘিরে দিল্লির আগ্রহের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। তবে সফরের তারিখ, আলোচ্যসূচি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au