লাকেম্বা মসজিদের মাইকে আজান প্রচারের প্রস্তাব ফের বাধার মুখে
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: অস্ট্রেলিয়ার সিডনির লাকেম্বা মসজিদের মিনার থেকে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারের প্রস্তাব আবারও বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। শব্দদূষণ নিয়ে উদ্বেগ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের…
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট: ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শাহ আলম নামে এক সহকারী শিক্ষককে মারধর ও প্রায় ছয় ঘণ্টা বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। পরে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে উপজেলার বড় বাইসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির এক সদস্য মুঠোফোনে প্রধান শিক্ষককে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে সহকারী শিক্ষক শাহ আলমের অসদাচরণের অভিযোগের কথা জানান। পরে প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন।
প্রধান শিক্ষক জানান, ছাত্রীর মা অভিযোগ করেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে শিক্ষক শাহ আলম মেয়েটিকে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য প্রতিদিন ১০ টাকা করে দিতেন। সোমবার শিক্ষক নিজের হাতে ‘ওয়াশরুমে যাও’ লিখে ওই ছাত্রীকে দেখান। এতে ভয় পেয়ে ছাত্রী বিদ্যালয় থেকে বাড়ি চলে যায় এবং পরে তার বাবা-মায়ের কাছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ করে।
প্রধান শিক্ষক পিয়ার মোহাম্মদ বলেন, তিনি ছাত্রীর অভিভাবকদের বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত ও বিচারের আশ্বাস দিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে আসেন। এরপর অফিসে ঢোকার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ছাত্রীর চাচা সৌরভ সরকার, বাবুসহ ১০ থেকে ১২ জন বহিরাগত বিদ্যালয়ে এসে শাহ আলমকে মারধর শুরু করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে বহিরাগতদের অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর তারা বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে আবার হামলার চেষ্টা করেন।
প্রধান শিক্ষক আরও জানান, শাহ আলম পিটিআই প্রশিক্ষণ শেষ করে প্রায় তিন মাস আগে ওই বিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছেন। এর আগে তার বিরুদ্ধে কোনো শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এদিকে ঘটনার পর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে একটি হাতে লেখা চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিটিকে ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিযোগপত্র হিসেবে দাবি করা হলেও এতে কোনো স্বাক্ষর নেই। এমনকি কার কাছে আবেদন করা হয়েছে, সেটিও উল্লেখ করা হয়নি।
ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, শিক্ষক শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীর গায়ে হাত দিতেন এবং গত দুই সপ্তাহ ধরে তাকে প্রতিদিন ১০ টাকা করে দিতেন। সোমবার তিনি নিজের হাতে ‘ওয়াশরুমে যাও’ লিখে ছাত্রীকে দেখান। এতে ভয় পেয়ে ছাত্রী বিদ্যালয় থেকে বাড়ি চলে যায়। একই ধরনের আচরণ অন্য সহপাঠীদের সঙ্গেও করা হয়েছে বলেও চিঠিতে অভিযোগ করা হয়।
তবে অভিযোগপত্রটির ভাষা, শব্দচয়ন, স্বাক্ষর না থাকা এবং এটি চতুর্থ শ্রেণির ওই ছাত্রীর নিজের হাতে লেখা কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহলের অনেকে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুখদেব বিশ্বাস বলেন, ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি ছাত্রীর বাড়িতে যেতে পারেননি। তবে অন্যদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, শিক্ষক ওই ছাত্রীকে ওয়াশরুমে যেতে বলেছিলেন। তার দাবি, কথিত অভিযোগপত্রে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওয়াশরুমে নিয়ে গিয়ে গায়ে হাত দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।
শিক্ষকের ওপর হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ থাকা সৌরভ সরকার বলেন, ওই শিক্ষক তার ভাতিজির গায়ে হাত দিয়েছেন বলে তিনি তার ভাবির কাছ থেকে শুনেছেন। এরপর সকালে তারা বিদ্যালয়ে যান এবং পরে স্থানীয় লোকজন শিক্ষককে মারধর করেন।
তবে শাহ আলম তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে এসে হঠাৎ জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে এমন একটি অভিযোগ উঠেছে। এরপর প্রধান শিক্ষক ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করেন। তিনি বিদ্যালয়ে ফিরে আসার কিছুক্ষণের মধ্যেই ১০ থেকে ১২ জন তাকে বেধড়ক মারধর করেন।
শাহ আলম বলেন, তিনি একজন শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সবসময় ভালো সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন। শিক্ষার্থীর সঙ্গে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠায় তিনি নিজেও বিস্মিত।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কবির হোসেন জানান, স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি শিক্ষক শাহ আলমকে বিদ্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। থানায় নেওয়ার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার ইসিজি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, শিক্ষককে মারধর ও অবরুদ্ধ করে রাখার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন, ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি শিক্ষককে মারধর করেছেন। একই সময়ে এক ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষকের নিপীড়নের অভিযোগও সামনে আসে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ যেমন গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন, তেমনি অভিযোগের ভিত্তিতে একজন শিক্ষককে মারধর ও অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাটিও তদন্ত করা উচিত। অভিযোগটি সত্য, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au