রেসিং ট্র্যাকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, অক্ষত অজিত কুমার
মেলবোর্ন, ২৪ আগষ্ট- ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা অজিত কুমার ইউরোপের একটি রেসিং ট্র্যাকে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। হাই-স্পিড এন্ডুরেন্স রেস চলাকালে তার রেসিং কারে যান্ত্রিক…
মেলবোর্ন, ২৩ আগষ্ট- রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ওরফে জুয়েলসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ডাকাতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে ধারণা করছে। তবে নিহতদের স্বজনদের দাবি, এটি ডাকাতি নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। বাড়ি নির্মাণের সময় চাঁদা দাবি নিয়ে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
নিহতরা হলেন রংপুর জেলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে পার্থী চক্রবর্তী এবং ১২ বছর বয়সী ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী। শনিবার রাতে মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ির ছাদ, সিঁড়ি ও ঘর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ডিসেম্বর মাসে রংপুর জেলা স্কুল থেকে অবসর নেন। অবসরের পর তিনি নিজ বাড়িতে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাসেবা দিতেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুই দিন ধরে যোগাযোগ না হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে তারা বাড়িতে গিয়ে মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। বাড়ির ভেতরও ছিল অন্ধকার। এরপর বাড়িতে প্রবেশ করে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ দেখতে পান তারা।
রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী বলেন, বাড়িটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন পাওয়া গেছে। পাশাপাশি টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার রাখার সম্ভাব্য স্থান এবং কিছু আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি ডাকাতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, বাড়ি নির্মাণের সময় চাঁদার টাকা দাবি নিয়ে একটি বিরোধ হয়েছিল। সেই বিরোধের জের ধরে পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করছেন।
গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে এবং বাড়ির বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে ঘটনাটিকে ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্বজনরা জানান, পরিবারের চার সদস্যের ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোনই বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। বাড়ির মূল ফটকেও তালা ঝুলছিল। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় স্থানীয়দের মাধ্যমে বাড়িতে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে স্বজনেরা বাড়িতে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, দোতলা বাড়িটি পুলিশ ঘিরে রেখেছে। বাড়ির নিচতলায় নির্মাণকাজ চলছিল। ওপরের তলার নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর সেখানেই পরিবারটি বসবাস করছিল। চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাড়ির সামনে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় মানুষের ভিড় দেখা যায়।
পাশের বাড়ির বাসিন্দা সোনালী দাস বলেন, পরিবারটি সবার সঙ্গে ভালোভাবে মিশত। তাদের সঙ্গে কারও বিরোধ ছিল কি না, তা তিনি জানেন না। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে তিনি আশা করেন।
রংপুর মহানগর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল কাদের জানান, চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি ও আটকদের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত জানানো হবে।

সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধকে আটক করা হয়।ছবিঃ সংগৃহীত
এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে রংপুর জেলা স্কুলসহ নগরীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বর্তমানে পুলিশ, সিআইডিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট ঘটনাটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au