রেসিং ট্র্যাকে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, অক্ষত অজিত কুমার
মেলবোর্ন, ২৪ আগষ্ট- ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা অজিত কুমার ইউরোপের একটি রেসিং ট্র্যাকে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। হাই-স্পিড এন্ডুরেন্স রেস চলাকালে তার রেসিং কারে যান্ত্রিক…
মেলবোর্ন, ২৩ আগষ্ট- বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করে বাতিল করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট জজ জ্যানেট ভার্গাস শুক্রবার দেওয়া রায়ে বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষণা করা নীতিটি ‘স্পষ্টতই বেআইনি’। তাঁর মতে, এই নীতি কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
রায়ে বিচারক বলেন, শুধু আবেদনকারীর জাতীয়তার ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসী ভিসা সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করা বিদ্যমান আইনি কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এর মাধ্যমে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি কর্তৃত্বও খর্ব করা হয়েছে।
জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া ওই নীতির আওতায় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ ও পাকিস্তান, লাতিন আমেরিকার ব্রাজিল, কলম্বিয়া ও উরুগুয়ে, বলকান অঞ্চলের বসনিয়া ও আলবেনিয়াসহ আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশের নাগরিকেরা ভিসা প্রক্রিয়ায় বাধার মুখে পড়েন।
তখন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, এসব দেশের অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি। সরকারের ভাষায়, তাদের ‘পাবলিক চার্জ’ হয়ে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে আদালতের রায়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

ডেমোক্রেটিক সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে নিযুক্ত বিচারক ভার্গাস এই রায় দেন। ছবি: সংগৃহীত
ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে নিয়োগ পাওয়া বিচারক জ্যানেট ভার্গাস অভিবাসী অধিকার রক্ষাকারী দুটি সংগঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর নাগরিকদের স্বজনদের জন্য ভিসার আবেদন করা কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এ রায় দেন।
মামলায় ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক ও আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদারসহ অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো যুক্ত ছিল।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার ও সরকারি সম্পদের ওপর চাপ কমানোর যুক্তিতে তাঁর প্রশাসন একের পর এক কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করেছে।
গত বছরের নভেম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যকে গুলি করার ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন সব ধরনের আশ্রয় আবেদন-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছিল। এর কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তথাকথিত ‘তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো’ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন স্থায়ীভাবে স্থগিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান উপ-মুখপাত্র টমি পিগট বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরকারি সহায়তার বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারেন এমন সম্ভাব্য অভিবাসীদের অযোগ্য ঘোষণা করতে পররাষ্ট্র দপ্তর তার দীর্ঘদিনের ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসী ভিসা স্থগিতের নীতিটি গত ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।
অন্যদিকে অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো শুরু থেকেই এই নীতির সমালোচনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের পদক্ষেপ বৈষম্য তৈরি করছে এবং বিশেষ করে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য অনিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টি করছে। তারা আরও বলেছে, নীতিটি বাকস্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au