সংসদের সামনে ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে পড়ে শিক্ষিকা নিহত, গ্রেপ্তার ২
রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইকারীদের টানে রিকশা থেকে পড়ে এক শিক্ষিকা নিহতের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এ সময় ছিনতাইয়ে…
ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে উদ্ধার হওয়া পরিচয়হীন ও দাবিদারহীন মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ায় দুর্গন্ধ ও সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের সুযোগ রাখতে দাফনের আগে প্রতিটি মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ এবং আলাদা শনাক্তকরণ নম্বর সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
গত বুধবার সকালে সুনামির মতো পানি ও কাদার প্রবল স্রোত নেপালের বিভিন্ন গ্রাম ও শহরে আঘাত হানে। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৭৩৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের সীমান্তবর্তী দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা চিতওয়ানে সবচেয়ে বেশি ২৩৩টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
মরদেহের সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিতওয়ানের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সেগুলো সংরক্ষণে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত হিমাগার না থাকায় একটি বাড়িকে অস্থায়ী শীতলীকরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেও মরদেহ রাখা হচ্ছিল। কিন্তু সেখানেও জায়গা শেষ হয়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ মরদেহ দাফনের সিদ্ধান্ত নেয়।
এক কর্মকর্তা জানান, মরদেহের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সেগুলো সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত অস্থায়ী স্থানেও জায়গা ফুরিয়ে গেছে। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে মরদেহ দাফন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প ছিল না।
নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিচয়হীন কোনো মরদেহই চিহ্নহীনভাবে দাফন করা হচ্ছে না। প্রতিটি মরদেহ থেকে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি একটি স্বতন্ত্র পরিচয় বা রেফারেন্স নম্বর দেওয়া হচ্ছে। মরদেহটি কোথায় দাফন করা হয়েছে, সেই তথ্যও সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
শনিবার বিকেল পর্যন্ত ১০০টির বেশি মরদেহের ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করা হয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এরপর মরদেহগুলো পরিচয় নম্বরযুক্ত ব্যাগে রাখা হচ্ছে এবং নির্দিষ্ট স্থানে দাফন করা হচ্ছে।
দাফনের জন্য প্রায় দেড় মিটার গভীর গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। প্রতিটি মরদেহের মধ্যে প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার দূরত্ব রাখা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে কোনো মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হলে সেটি সহজে কবর থেকে তুলে আনা যায়।
নেপালের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে ডিএনএ নমুনা দিতে হবে। পরে এসব নমুনার সঙ্গে দাফন করা মরদেহের সংরক্ষিত ডিএনএ মিলিয়ে দেখা হবে।
কোনো মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হলে তার রেফারেন্স নম্বরের মাধ্যমে পুলিশ সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে কবরের অবস্থান শনাক্ত করবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ কবর থেকে তুলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এদিকে, পরিচয়হীন ও দাবিদারহীন মরদেহগুলোর তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করেছে নেপাল পুলিশ। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক বিদেশি নাগরিকসহ দেশটিতে এখনো প্রায় ২ হাজার ৫০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো একদিকে পচনশীল মরদেহ থেকে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো, অন্যদিকে ডিএনএ ও পরিচয় নম্বর সংরক্ষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের কাছে মরদেহ শনাক্ত ও হস্তান্তরের সুযোগ নিশ্চিত করা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au