কলকাতায় বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নির্দেশনা
চিকিৎসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে কলকাতাগামী বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশ ছাড়ার আগে হোটেল বুকিং নিশ্চিত করার পাশাপাশি আবাসস্থলের নিরাপত্তা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশন।…
থাইল্যান্ডের একটি বন্দরে নোঙর করেছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’। দীর্ঘ প্রায় ১ হাজার ১০০ ফুটের বিশাল এই যুদ্ধজাহাজটি বন্দরে পৌঁছানোর পর এর বাইরের কাঠামোর অবস্থা দেখে হতবাক হয়েছেন পর্যবেক্ষকেরা। জাহাজটির সামনের অংশ থেকে পেছনের অংশ পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক মরিচা দেখা গেছে।
তবে সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে সক্রিয় থাকার পর এমন পরিস্থিতি অস্বাভাবিক নয়। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত নভেম্বরে সান ডিয়েগোর ঘাঁটি ছেড়েছিল আব্রাহাম লিংকন। এরপর টানা ২৮৬ দিন সমুদ্রে কাটিয়েছে রণতরিটি। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে কয়েক মাসের যুদ্ধ ও নৌ অবরোধেও অংশ নেয় জাহাজটি।
আব্রাহাম লিংকনের মতো নিমিৎজ শ্রেণির বিমানবাহী রণতরিতে তিন দফায় দায়িত্ব পালন করেছেন মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক ক্যাপ্টেন কার্ল শুস্টার। তাঁর মতে, কোনো যুদ্ধজাহাজ সমুদ্রে টানা ৬০ দিন বা তার বেশি সময় সক্রিয় থাকলে জলরেখার আশপাশে মরিচা ধরা অস্বাভাবিক নয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে শুস্টার বলেন, বিশেষ করে যুদ্ধ বা সামরিক অভিযানের সময় সমুদ্রে অবস্থানরত জাহাজে নিয়মিতভাবে মরিচা পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। কারণ এ কাজের জন্য জাহাজের ক্রুদের জলরেখা পর্যন্ত নামতে হয়। এরপর মরিচা ঘষে তুলে ফেলতে হয়। পরে সেখানে দুই স্তর মরিচারোধক উপাদান এবং তার ওপর নৌবাহিনীর বিশেষ ধূসর রঙের দুই স্তর প্রলেপ দিতে হয়।
শুস্টারের ধারণা, আব্রাহাম লিংকনের পুরো মরিচা পরিষ্কার করতে অন্তত ৩০ দিনের সংস্কারকাজ প্রয়োজন হতে পারে। তবে থাইল্যান্ডে কয়েক দিনের যাত্রাবিরতির সময় জাহাজটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশে প্রয়োজনীয় কাজ করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
দীর্ঘ ও কঠিন সামরিক অভিযানের পর ক্রুদের বিশ্রাম দেওয়ার জন্য বুধবার জাহাজটি ব্যাংককের দক্ষিণে থাইল্যান্ড উপসাগরের লায়েম চাবাং বন্দরে পৌঁছেছে। সেখানে কয়েক দিন অবস্থান করার কথা রয়েছে রণতরিটির।
শুস্টার বলেন, প্রায় সাত দিনের এই বন্দরযাত্রায় জাহাজটির সব ধরনের সংস্কার সম্ভব হবে না। এ সময়ে মূলত জরুরি কাজগুলো করা হবে। বিশেষ করে জাহাজের সামনের অংশ বা ধনুকের মতো বাঁকানো অংশে থাকা মরিচা আগে পরিষ্কার করা হতে পারে। কারণ সমুদ্রে চলার সময় নোনা পানির সংস্পর্শে এসব অংশ তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সাবেক এই নৌ কর্মকর্তা বলেন, জাহাজের ওপরের অংশের কিছু মরিচা চলন্ত অবস্থাতেও পরিষ্কার করা সম্ভব। কিন্তু জলরেখার অংশে কাজ করতে হলে জাহাজকে স্থির অবস্থায় রাখতে হয়। একই সঙ্গে সেখানে ঢেউ থাকাও চলবে না।
মরিচার বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা গুরুত্বপূর্ণ বলেও সতর্ক করেছেন শুস্টার। তাঁর মতে, মরিচা এক জায়গা থেকে ধীরে ধীরে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই শুরুতেই তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তা না হলে পরবর্তী সময়ে আরও বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হয়।
তিনি বলেন, মরিচা যেকোনো ইস্পাতের কাঠামোকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিতে পারে। ফলে জাহাজের ডেক, চলাচলের পথ কিংবা সুরক্ষাদড়ির মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই মরিচা অপসারণ করা জরুরি।
তবে দীর্ঘ অভিযানের পর আব্রাহাম লিংকনের সমস্যার তালিকায় শুধু মরিচাই নেই। জাহাজটিতে রসদ সংকট এবং ক্রুদের মনোবল ভেঙে পড়ার খবরও সামনে এসেছে। এমনকি অন্তত একজন নাবিক সমুদ্রে ছিটকে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অবশ্য এসব উদ্বেগ উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, আব্রাহাম লিংকনের এই অভিযানকে খুব দীর্ঘ সময়ের অভিযান বলা যায় না।
থাইল্যান্ডে পৌঁছানোর পর জাহাজটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে ট্রাম্প এখনো কোনো মন্তব্য করেননি। তবে অতীতে তিনি মার্কিন নৌবাহিনীকে যুদ্ধজাহাজ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে একাধিকবার তাগিদ দিয়েছেন। তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন বিমানবাহী রণতরিগুলো আগের তুলনায় দীর্ঘ সময় সমুদ্রে দায়িত্ব পালন করছে।
গত বছর তৎকালীন মার্কিন নৌবাহিনী সচিব জন ফেলান জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প গভীর রাতেও ফোন করে যুদ্ধজাহাজে মরিচা ধরার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতেন।
এদিকে নৌবাহিনীর সদস্যদের কাছে মরিচা পরিষ্কারের কাজ খুব একটা জনপ্রিয় নয় বলে জানিয়েছেন সাবেক ক্যাপ্টেন কার্ল শুস্টার। তাঁর ভাষ্য, নৌবাহিনীতে নাবিকদের সবচেয়ে অপছন্দের কাজগুলোর একটি হলো জাহাজের মরিচা ঘষে পরিষ্কার করা। অন্যটি হলো জাহাজের পাইপ বা নর্দমা পরিষ্কার করা। নিজের কর্মজীবনের শুরুর দিকে কনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনিও এই দুটি কাজকে অত্যন্ত অপছন্দ করতেন বলে জানান শুস্টার।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au