যুবলীগকর্মীকে না পেয়ে বাবাকে গ্রেপ্তার
ঢাকার ধামরাইয়ে যুবলীগের কর্মী প্রকৌশলী রিফাত আহমেদকে গ্রেপ্তার করতে তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে না পেয়ে বাবা মোহাম্মদ কলিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত…
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসির বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সময় নির্ধারিত হয়নি।
প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ অনুমতি ছাড়া আইসিসির সঙ্গে অধিকাংশ ধরনের আর্থিক লেনদেন করতে পারবে না। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে ছয় থেকে সাত মাসের একটি সময়সীমা রাখা হতে পারে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলাকালীন চলতি সপ্তাহেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে আইসিসির কয়েকজন বিচারক, কৌঁসুলি ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে এবার পুরো আদালতকেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের এ পদক্ষেপ কার্যকর হলে আইসিসির অর্থনৈতিক কার্যক্রম, তথ্যপ্রযুক্তি সেবা, বিমা, তদন্ত কার্যক্রম এবং কর্মীদের বেতন পরিশোধের মতো দৈনন্দিন কাজেও প্রভাব পড়তে পারে।
আইসিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তির অন্যতম কারণ হলো ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে আদালতের নেওয়া আইনি পদক্ষেপ। ২০২৪ সালের নভেম্বরে গাজা যুদ্ধসংক্রান্ত অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আইসিসি। এরপর আদালটির সঙ্গে ওয়াশিংটনের বিরোধ আরও প্রকাশ্য হয়ে ওঠে।
এ ছাড়া আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নিয়ে আইসিসির পুরোনো তদন্ত নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন আদালতকে ইসরায়েলি নেতাদের বিরুদ্ধে জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাহার এবং আফগানিস্তানসংক্রান্ত তদন্ত বন্ধ করার জন্য চাপ দিয়ে আসছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
গত জুলাইয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আইসিসির বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন। তিনি আদালটির সদস্য দেশগুলোকে আইসিসি থেকে সরে আসার আহ্বান জানান এবং আদালটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র আদালটির কয়েকজন কর্মকর্তা ও বিচারকের বিরুদ্ধে পৃথক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার আওতা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক লেনদেনে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল বিদেশি ব্যাংক ও প্রতিষ্ঠানগুলোও ঝুঁকি এড়াতে আইসিসির সঙ্গে লেনদেনে সতর্কতা বাড়াতে পারে। এতে আদালটির প্রযুক্তি ও বিমা সেবা নেওয়া, তদন্তকারী নিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন পরিচালনা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ২০০২ সালে কার্যক্রম শুরু করে। গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার করাই এর প্রধান উদ্দেশ্য। কোনো দেশের নিজস্ব বিচারব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচার করতে না পারলে বা না চাইলে নির্দিষ্ট আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে আইসিসি সেই ঘটনায় বিচারিক এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য আইসিসির সদস্য নয়।
এখন পর্যন্ত পুরো আদালতের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়নি। মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং নিষেধাজ্ঞার সুনির্দিষ্ট শর্তের ওপর এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au