বিশ্ব

সুদানে মানবিক যুদ্ধবিরতি বারবার ব্যর্থ হচ্ছে কেন, দায় কার?

  • 5:25 am - September 22, 2026
  • পঠিত হয়েছে:৪২ বার
সুদানে মানবিক যুদ্ধবিরতি বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। ছবিঃ সংগৃহীত

সুদানে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। যুদ্ধ বন্ধের বদলে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে লড়াই আরও তীব্র হচ্ছে। এর ফলে ভয়াবহ মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে এবং জরুরি খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা প্রয়োজন এমন লাখো মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছানো ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নতুন উদ্যোগেও সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মহল যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে সাময়িকভাবে অস্ত্রবিরতিতে রাজি করিয়ে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরির চেষ্টা করলেও মাঠের বাস্তবতায় স্থানীয় যুদ্ধবিরতিগুলো ভেঙে পড়ছে। জাতিসংঘও সতর্ক করেছে, সুদানের মানবিক সহায়তা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘ জানিয়েছে, দেশটিতে ৮৬ লাখ মানুষ এখনো অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের সরবরাহ ব্যবস্থা অর্থ ও নিরাপত্তাজনিত সংকটে পড়েছে।

মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছে। কিন্তু যুদ্ধরত দুই পক্ষই সামরিকভাবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে যে স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হচ্ছে, সেগুলোও অনেক ক্ষেত্রে টিকছে না।

২০২৩ সাল থেকে যুদ্ধ

সুদানে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিলে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর দেশটির সেনাবাহিনী সুদানি সশস্ত্র বাহিনী বা এসএএফ এবং আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস বা আরএসএফের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরবর্তীতে এই সংঘাত সুদানের ১৮টি রাজ্যের মধ্যে ১৩টিতে ছড়িয়ে পড়ে। লাখো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। জাতিসংঘের হিসাবে, সুদানের যুদ্ধ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক ও বাস্তুচ্যুতি সংকটগুলোর একটি। ২০২৬ সালে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন এবং ৪০ লাখের বেশি মানুষ তীব্র অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে।

যুদ্ধের কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খাদ্যসংকট, রোগের প্রাদুর্ভাব, চিকিৎসাসেবার ঘাটতি এবং ত্রাণ সরবরাহে বাধার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদও যুদ্ধ অব্যাহত ছিল এবং মানবিক চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের তুলনায় সহায়তার পরিমাণ ছিল অনেক কম।

একের পর এক যুদ্ধবিরতি কেন ভেঙে পড়ছে

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সুদানে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার জন্য একাধিক আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ছিল ২০২৩ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় হওয়া জেদ্দা ঘোষণা।

এর লক্ষ্য ছিল বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সংঘাতপূর্ণ এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি করা। কিছু এলাকায় সাময়িকভাবে সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হলেও উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত উদ্যোগটি কার্যকরভাবে ভেঙে পড়ে।

এরপর আফ্রিকান ইউনিয়ন ও আন্তঃসরকার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা আইজিএডির মাধ্যমে আঞ্চলিক পর্যায়েও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু স্থানীয় পর্যায়ে ঘোষিত স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতিগুলোও বারবার ভেঙে যায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আবার সংঘর্ষ শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ

গত এক বছরে সুদান সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। জেনেভাভিত্তিক ‘অ্যালাইন্ড ফর অ্যাডভান্সিং লাইফসেভিং অ্যান্ড পিস ইন সুদান’ বা এএলপিএস উদ্যোগে নেতৃত্ব দিচ্ছে ওয়াশিংটন। সুইজারল্যান্ড, সৌদি আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জাতিসংঘ ও আফ্রিকান ইউনিয়নও এই প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত।

উদ্দেশ্য হচ্ছে যুদ্ধরত পক্ষগুলোর মধ্যে সরাসরি আলোচনা এবং স্থানীয় পর্যায়ে মানবিক বিরতি প্রতিষ্ঠা করা।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরব ও আফ্রিকা বিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাসাদ বুলোস সুদানের মানবিক সহায়তার জন্য ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আবারও বলেছেন, এই সংঘাতের কোনো সামরিক সমাধান নেই।

যুক্তরাষ্ট্র এখন সুদানে ৯০ দিনের একটি মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বানও জানিয়েছে বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যুদ্ধপ্রবণ এলাকাগুলোতে জরুরি খাদ্য ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু যুদ্ধের মাঠে পরিস্থিতি ভিন্ন। দক্ষিণ কোরদোফানে সুদানি সেনাবাহিনী এসএএফ নিজেদের অগ্রগতির দাবি করেছে। ব্লু নাইল রাজ্যেও আরএসএফের হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে সেনাবাহিনী। অন্যদিকে এল ওবেইদের পশ্চিমে আবু কাওদ এলাকায় সেনাবাহিনী ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিজয়ের দাবি করেছে আরএসএফ।

অর্থাৎ দুই পক্ষই নিজেদের সামরিকভাবে এগিয়ে থাকার দাবি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে বিজয়ের এমন দাবি রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াই কি যুদ্ধবিরতির বড় বাধা?

সুদানে যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে বিশ্লেষকেরা যুদ্ধরত দুই পক্ষের নেতৃত্বের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সামনে আনছেন।

এসএএফের নেতৃত্বে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান। অন্যদিকে আরএসএফের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ হামদান দাগালো, যিনি ‘হেমেদতি’ নামে পরিচিত।

সুদানি শিক্ষাবিদ ও আল-ওয়াসাত পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ফাথি আবু আম্মারের মতে, সামরিক নেতৃত্ব ইচ্ছাকৃতভাবেই আলোচনাকে ধীর করে দিচ্ছে, যাতে ক্ষমতার ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।

আল জাজিরাকে তিনি বলেন, সুদানের জনগণের স্বার্থে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ সেনাবাহিনী, আল-বুরহান এবং এসএএফের প্রধান ইয়াসের আল-আত্তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের লক্ষ্য হচ্ছে নিজেদের শর্ত অনুযায়ী শান্তির কাঠামো তৈরি করা।

আবু আম্মারের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দুই সামরিক কমান্ডারের বক্তব্য থেকে এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে আল-বুরহান দীর্ঘ সময়ের জন্য সুদানের ওপর তাঁর শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন।

তবে এসএএফের সমর্থকদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন। তাঁদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে একের পর এক সাফল্যের কারণে সেনাবাহিনী এখন তুলনামূলক শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তাই আরএসএফের সঙ্গে আপস করার প্রয়োজন তারা অনুভব করছে না।

মালায়েম সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিটিক্যাল রিলেশনস স্টাডিজের পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম আল-রশিদও মনে করেন, আরএসএফ এখন ব্যাপক পরাজয়ের মুখে এবং সেনাবাহিনীর বিজয়ের মধ্য দিয়েই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটতে পারে।

আল জাজিরাকে তিনি বলেন, আরএসএফের পরাজয় শুধু সামরিক নয়, কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও। তাঁর দাবি, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদেও আরএসএফের অবস্থান ও সমর্থন সংকটের মধ্যে পড়েছে।

তাঁর মতে, সামরিক অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে সরকার আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে এবং ভবিষ্যতে এমন একটি শান্তির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে, যা সংকটকে পুনরুৎপাদন না করে সুদানের জনগণের স্বার্থকে সামনে রাখবে।

আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা নিয়েও প্রশ্ন

যুদ্ধ অব্যাহত থাকার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

সুদানবিষয়ক সাবেক মার্কিন দূতীয় উপদেষ্টা ক্যামেরন হাডসনের মতে, যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে আলোচনার বাইরে রেখে শুধু নিষেধাজ্ঞা ও চাপ প্রয়োগের কৌশল কার্যকর হয়নি।

আল জাজিরাকে তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র মূলত চাপ প্রয়োগের পথেই এগিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা, রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ এবং দুই পক্ষকে এড়িয়ে চলার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এভাবে একের পর এক চাপ প্রয়োগ করে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি।

হাডসনের মতে, শান্তির জন্য প্রণোদনা ও আলোচনায় ফেরার বাস্তব সুযোগ তৈরি করার পদ্ধতি যুক্তরাষ্ট্র এখনো যথেষ্টভাবে প্রয়োগ করেনি।

তিনি বলেন, শুধু চাপ বাড়িয়ে যাওয়ার কৌশল কাজ করেনি। যুক্তরাষ্ট্রকে স্বীকার করতে হবে যে এই পদ্ধতি সফল হয়নি। যুদ্ধরত পক্ষগুলোর অবস্থান পরিবর্তন না হলে তারা নিজেরা যুদ্ধ থামানোর দিকে এগোবে বলেও মনে করেন না তিনি।

মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে

যুদ্ধবিরতি ব্যর্থ হওয়ার সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। যুদ্ধের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কোটি ছাড়িয়েছে। বর্তমানে শুধু সুদানের ভেতরেই ৮৬ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত অবস্থায় রয়েছেন। এর বাইরে প্রায় ৪৯ লাখ মানুষ বিভিন্ন সময়ে বাস্তুচ্যুত হয়ে আবার নিজ এলাকায় ফিরে এসেছেন।

জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সুদানের জরুরি ত্রাণ সরবরাহ ব্যবস্থাও সংকটের মুখে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বা আইওএম জানিয়েছে, তাদের ‘কমন হিউম্যানিটারিয়ান পাইপলাইন’-এর জরুরি সরবরাহ দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে যেতে পারে। ২০২৩ সালের জুলাই থেকে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ২৮ লাখের বেশি মানুষ সহায়তা পেয়েছে।

জাতিসংঘের হিসাবে, সুদানের মানবিক সহায়তা ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম অর্থ পাচ্ছে। ২০২৫ সালের মানবিক সহায়তা পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের মাত্র ৪০ শতাংশ পাওয়া গিয়েছিল। ফলে খাদ্য, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, আশ্রয় এবং অন্যান্য জরুরি সেবা দেওয়ার সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে।

সামনে কি আরও কঠিন পরিস্থিতি?

সুদানে যুদ্ধরত দুই পক্ষই যখন যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার দাবি করছে, তখন মানবিক যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ৯০ দিনের মানবিক বিরতির আহ্বান জানালেও এর বাস্তবায়ন নির্ভর করবে এসএএফ ও আরএসএফের সম্মতির ওপর। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য নিরাপত্তা, ত্রাণ প্রবেশের নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধরত পক্ষগুলোর ওপর কার্যকর চাপ প্রয়োজন।

অন্যদিকে জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, সহায়তা পৌঁছাতে হলে শুধু যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়। নিরাপদ ও বাধাহীনভাবে ত্রাণ পরিবহন এবং মানবিক কর্মীদের চলাচলের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে জাতিসংঘ বারবার সব পক্ষকে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামো সুরক্ষা এবং নিরাপদ, দ্রুত ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

ফলে সুদানের যুদ্ধবিরতি সংকটের মূল প্রশ্ন এখন শুধু কে যুদ্ধবিরতি ভাঙছে, তা নয়। বরং যুদ্ধরত পক্ষগুলো সামরিক বিজয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে যাবে, নাকি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমঝোতায় যাবে, সেটিই হয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।

যতদিন পর্যন্ত দুই পক্ষের কাছে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার রাজনৈতিক ও সামরিক প্রণোদনা শান্তির চেয়ে বেশি থাকবে, ততদিন স্থানীয় বা সাময়িক মানবিক যুদ্ধবিরতিগুলো টেকসই করা কঠিন হতে পারে। আর এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে থাকবেন সুদানের সাধারণ মানুষ, যাঁরা দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, খাদ্যসংকট ও চিকিৎসাসেবার ঘাটতির মধ্যে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এই শাখার আরও খবর

বাংলাদেশে শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকার ৩৬ শতাংশ : আইএমএফ

বাংলাদেশে প্রতি ১০০ জন শিক্ষিত তরুণের মধ্যে ৩৬ জন বেকার। শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ৩৬ শতাংশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য…

কেরানীগঞ্জে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও ভাইকে গুলি, ২৫ ভরি সোনা লুট

ঢাকার কেরানীগঞ্জে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও তাঁর ফুফাতো ভাইকে গুলি করে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে…

জাবি অধ্যাপকের কাছে চাঁদা দাবি, সন্তানকে অপহরণের হুমকি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক অধ্যাপককে মুঠোফোনে কল করে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না দিলে তাঁর সন্তানকে অপহরণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের ও…

কাঠগড়ায় মাথা নিচু গাজী নজরুলের, কান্নায় ভেঙে পড়লেন প্রথম স্ত্রী মাকছুদা

ঢাকার আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বারবার মাথা নিচু করে থাকলেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম। মামলার…

দুই ফোন ডিটারজেন্ট পানিতে, আগমী-আয়ুষের ফোন অক্ষত: তদন্তে প্রশ্ন বাড়ছে

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের প্রাথমিক বয়ান ঘিরে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। গ্রেপ্তার দুই তরুণ সিদ্ধার্থ…

৮ প্রাণহানি, ৩০০ গজ দূরেও ক্ষয়ক্ষতি, আশুলিয়ার বিস্ফোরণে নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। রোববার সন্ধ্যার এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au